মাসুদ রানা, বিশেষ প্রতিনিধিঃ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-০৩ শাখায় কর্মরত এও খোকনের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, পদায়ন-বাণিজ্য ও প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মাঠপর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের একটি অংশ লিখিতভাবে অভিযোগ করে জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই শাখায় থেকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন ও বদলি প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আস্থা ভাজন হয়ে তিনি ইচ্ছে খেয়াল খুশি মত কাজ করেছেন।

অভিযোগপত্রে এও বলা হয়েছে, খোকন প্রায় এক দশকের বেশি সময় ধরে একই শাখায় দায়িত্ব পালন করছেন। এই সময়ে ডিসি অফিস ও ইউএনও অফিসে বিভিন্ন পদায়নের ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেন হয়েছে এমন অভিযোগ তুলেছেন আবেদনকারীরা। তাঁদের দাবি, মাঠপর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। অর্থ না দিলে ফাইল আটকে রাখা বা প্রতিকূল মন্তব্য জুড়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
জানা যায়, ২০/৩০ জন ভুক্তভোগী একযোগে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথাও উল্লেখ আছে নথিতে। এমনকি বিভাগীয় মামলার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। তবে পরবর্তী সময়ে তা আর অগ্রসর হয়নি। অভিযোগকারীরা বলছেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের ছত্রচ্ছায়ায় বিষয়টি ‘নিষ্পত্তিহীন’ অবস্থায় পড়ে আছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বদলি ও পদায়ন প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত নীতিমালা উপেক্ষা করে পছন্দসই ব্যক্তিদের সুবিধাজনক স্থানে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে ‘অপছন্দের’ কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে প্রতিকূল নোটিং বা বিলম্ব কৌশল নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এতে প্রশাসনের অভ্যন্তরে অসন্তোষ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন একাধিক কর্মকর্তা।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ আছে, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা দীর্ঘদিন একই শাখায় অবস্থান করছেন। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ কার্যকর তদন্তের মুখ দেখেনি। অভিযোগকারীদের দাবি, এ ধরনের অবস্থান প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, “সব পদায়ন ও বদলি সরকারি বিধি অনুযায়ী হয়েছে। ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে এসব অভিযোগ তোলা হয়েছে।
তবে অভিযোগকারীরা বলছেন, প্রয়োজনে তাঁরা তদন্ত কমিটির সামনে নথি ও প্রমাণ উপস্থাপন করবেন।
প্রশাসন বিশ্লেষকদের মতে, বদলি ও পদায়ন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ না হলে পুরো প্রশাসনিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে। অভিযোগ উঠলে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত সিদ্ধান্তই হতে পারে আস্থা ফিরিয়ে আনার উপায়।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের একটি শাখা ঘিরে ঘুষ ও প্রভাবের অভিযোগ প্রশাসনের ভাবমূর্তিতে আঘাত হানছে। লিখিত অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে অভিযোগ কি চাপা পড়ে যাচ্ছে? এখন নজর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দিকে স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটনে তারা কতটা আন্তরিকতা দেখায়।
