দরিদ্র খুঁজতেই কোটি টাকার আয়োজন, ভাতের অভাবে থাকা মানুষের সংশয়

দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর তালিকা তৈরির জন্য বিশাল বাজেটের জরিপ প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে। একজন কর্মহীন অভাবী ব্যক্তির কাছে জরিপকারী যখন নানা জটিল প্রশ্ন নিয়ে হাজির হন, তখন তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন, তাকে খুঁজে বের করতেই যদি এত বিশাল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়, তবে তার পেটের ক্ষুধা মেটাতে কতটা উদ্যোগ নেওয়া হবে। জরিপের ফরমের গোলকধাঁধায় পড়ে ওই ব্যক্তি আক্ষেপ করে বলেন, ডিজিটাল যুগে মোবাইল বা ইন্টারনেটের ব্যবহার থাকলেও তার হাঁড়িতে চাল নেই, যা জরিপকারীরা বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছেন।
জরিপকারী যখন তাকে বিভিন্ন শ্রেণির (দরিদ্র, অতিদরিদ্র বা ঝুঁকিপূর্ণ) মাধ্যমে যাচাই-বাছাইয়ের কথা জানান, তখন ওই ব্যক্তি পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে, তার কাছে দারিদ্র্য একটিই—আর তা হলো খাবারের অভাব। অগণিত ধাপের এই প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার চেয়ে বাস্তবের ক্ষুধার সংকট যে অনেক বেশি প্রকট, তা তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত কোনো সদুত্তর না পেয়ে তিনি বুঝতে পারেন, জরিপকারীদের কাজ কেবল তাকে শনাক্ত করা, কিন্তু অভাব দূর করার প্রকৃত সমাধান এখনো অধরা। সরকারি সহায়তা পৌঁছানোর নামে দীর্ঘসূত্রতা ও তথ্যের বেড়াজালে পড়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় আদৌ কোনো পরিবর্তন আসবে কি না, তা নিয়ে থেকে যায় গভীর অনিশ্চয়তা।
সূত্র: প্রথম আলো
