📰 ই-পেপার
ব্রেকিং
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিপুল বিনিয়োগের প্রভাব, মাইক্রোসফটে ৬০ হাজার কর্মীর স্বেচ্ছায় অবসরের সম্ভাবনা দেশীয় পর্যটনে নতুন মাত্রা যোগ করছে ভাইয়া গ্রুপের আধুনিক রিসোর্ট ও আবাসন সেবা পাঠ্যবই মুদ্রণের ব্যয় কমল ১৪ কোটি টাকা ক্যামেরার লেন্সে বন্দি জনজীবনের বৈচিত্র্যময় খণ্ডচিত্র আইইডিসিআর পরিচালকের কার্যালয়ে হামলা, অভিযুক্ত ড্যাব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিপুল বিনিয়োগের প্রভাব, মাইক্রোসফটে ৬০ হাজার কর্মীর স্বেচ্ছায় অবসরের সম্ভাবনা দেশীয় পর্যটনে নতুন মাত্রা যোগ করছে ভাইয়া গ্রুপের আধুনিক রিসোর্ট ও আবাসন সেবা পাঠ্যবই মুদ্রণের ব্যয় কমল ১৪ কোটি টাকা ক্যামেরার লেন্সে বন্দি জনজীবনের বৈচিত্র্যময় খণ্ডচিত্র আইইডিসিআর পরিচালকের কার্যালয়ে হামলা, অভিযুক্ত ড্যাব
শিক্ষা

৩৭তম বিসিএসের শিক্ষা ক্যাডারের প্রভাষক পদের পদোন্নতি অগ্রগতি কতদূর?

October 28, 2026

Spread the love

​স্টাফ রিপোর্টারঃ


বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) বিভিন্ন ক্যাডারে পদোন্নতির ধারাবাহিকতা বজায় থাকলেও বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে পদোন্নতিবঞ্চনার চিত্র ক্রমেই প্রকট হচ্ছে। অন্যান্য ক্যাডারের ৩৭তম বিসিএসের কর্মকর্তারা ২০২৪ সালে এবং ৩৮তম বিসিএসের কর্মকর্তারা ২০২৬ সালে ষষ্ঠ গ্রেডে পদোন্নতি পেলেও, শিক্ষা ক্যাডারের ৩৭তম বিসিএসের অনেক কর্মকর্তা এখনো নবম গ্রেডের প্রভাষক পদেই কর্মরত রয়েছেন। এতে একই বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তাদের মধ্যে পদমর্যাদা, আর্থিক সুবিধা ও পেশাগত অগ্রগতির ক্ষেত্রে তীব্র বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে।
​শিক্ষা ক্যাডারে দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির সংকট চলছে। ২০২৫ সালে এক দফায় ১ হাজার ৮৭০ জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে ৩৭তম ব্যাচসহ যোগ্যদের পদোন্নতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

​পদসংকটে আটকে প্রথম পদোন্নতি
​মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে প্রভাষক পর্যায়ে অনুমোদিত পদ রয়েছে ৯ হাজার ৭৮২টি। বিপরীতে সহকারী অধ্যাপক পর্যায়ে পদ রয়েছে মাত্র ৪ হাজার অর্থাৎ ৪ হাজার ৪৫১টি। প্রভাষক পদের তুলনায় সহকারী অধ্যাপক পদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কম থাকায় নিয়মিত সাংগঠনিক কাঠামোতেই বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে।
​এই ব্যবধানের কারণে বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তা পদোন্নতির নির্দিষ্ট যোগ্যতা অর্জন করলেও কাঙ্ক্ষিত পদোন্নতি পাচ্ছেন না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, নিয়মিত পদ সৃষ্টি, পদ আপগ্রেডেশন এবং বিকল্প প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিয়েছে।

​ডিপিসি সভা শেষ, তবুও ঝুলে আছে জিও
​পদোন্নতি-সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের জটিলতা নিরসনে ২০২৬ সালের ১৬, ১৭ ও ২১ সেপ্টেম্বর ৩৭তম বিসিএসের বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির (ডিপিসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার কার্যক্রম সম্পন্ন হলেও প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত পদোন্নতির সরকারি আদেশ বা জিও জারি হয়নি।
​জিও জারিতে এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে। প্রভাষক পরিষদ ও পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের দাবি, ডিপিসির সুপারিশের আলোকে যোগ্য কর্মকর্তাদের দ্রুত পদোন্নতির আদেশ জারি করতে হবে এবং প্রযোজ্য বিধিমালা অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতা ও আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
​সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব ও স্থবিরতা

​পদস্বল্পতা নিরসনে সহকারী অধ্যাপক পর্যায়ে ২ হাজার ৮২৩টি সুপারনিউমারারি (অতিরিক্ত) পদ সৃষ্টির একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। গত ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি এ-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল।
​সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টি করা হলে নিয়মিত অনুমোদিত শূন্য পদ না থাকলেও নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে যোগ্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতির সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে দীর্ঘদিনের পদোন্নতি জট কমার সম্ভাবনা থাকলেও প্রস্তাবটির চূড়ান্ত অনুমোদন ও বাস্তবায়ন নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে।

​অন্যান্য ক্যাডারের সঙ্গে বৈষম্যের অভিযোগ
​শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের মূল ক্ষোভের জায়গাটি হলো আন্তঃক্যাডার বৈষম্য। একই বিসিএস ব্যাচে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা অন্যান্য ক্যাডারে উচ্চতর গ্রেডে দায়িত্ব পালন করলেও শিক্ষা ক্যাডারে বছরের পর বছর একই পদে আটকে থাকতে হচ্ছে। এর ফলে বেতন-ভাতা, পদমর্যাদা, প্রশাসনিক দায়িত্ব এবং ভবিষ্যৎ পেশাগত অগ্রগতিতে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হচ্ছে। কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়িত হলে এই ব্যবধান আরও তীব্র আকার ধারণ করবে।

​স্থায়ী সমাধানের দাবিতে মাউশিতে অবস্থান কর্মসূচি
​পদোন্নতির সরকারি আদেশ দ্রুত জারি এবং দীর্ঘদিনের জট নিরসনের দাবিতে গত ২০২৬ সালের ২৫ অক্টোবর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) প্রাঙ্গণে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন ৩৬তম, ৩৭তম ও ৩৮তম বিসিএসের পদোন্নতিবঞ্চিত শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তারা।

​শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের প্রধান দাবিগুলো হলো:
​ডিপিসির সভার আলোকে ৩৭তম ব্যাচসহ যোগ্য সবার দ্রুত পদোন্নতির জিও জারি করা।
​বকেয়া আর্থিক সুবিধাসহ পদোন্নতি নিশ্চিত করা।
​পদস্বল্পতা নিরসনে দ্রুত সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টি ও বাস্তবায়ন।
​নিয়মিত পদোন্নতির সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ।

​সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে এই কাঠামোগত সংকটের স্থায়ী সমাধান করবে। অন্যথায় পদোন্নতিবঞ্চনা ও পেশাগত হতাশা আরও বাড়বে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে সরকারি কলেজ ও সার্বিক শিক্ষা প্রশাসনের কর্মপরিবেশে।

এই সংবাদের ফটো কার্ড বানিয়ে নিন —