ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ সংকট আড়ালে মুসলিমবিরোধী বয়ান ব্যবহারের নেপথ্যে

ফ্রান্সে বর্তমানে চলমান ছাত্র ও জাতীয় বিক্ষোভ কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক বৈষম্য, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং নব্য-উদারবাদী নীতির ফলে সৃষ্ট পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ফরাসি সমাজে বেড়ে ওঠা অভিবাসী বংশোদ্ভূত তরুণরা নিজেদের যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও কর্মক্ষেত্র ও নাগরিক সেবায় যে বৈষম্যের শিকার হন, তা এই অস্থিরতাকে আরও উসকে দিয়েছে। অথচ শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের যৌক্তিক দাবিগুলোকে পাশ কাটিয়ে এক শ্রেণির রাজনৈতিক নেতা বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছেন।
এই পরিস্থিতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প বা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মতো আন্তর্জাতিক রাজনীতিকরা ফ্রান্সের সংকটকে ‘ইসলামি আগ্রাসন’ বা ‘হামাস’-এর অনুপ্রবেশ হিসেবে তকমা দিয়ে উগ্র-ডানপন্থী ন্যারেটিভ প্রচার করছেন। ফিলিস্তিন সংহতি ও মুসলিমদের প্রতি এই বিদ্বেষপূর্ণ প্রচারণা মূলত অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা থেকে মনোযোগ সরিয়ে নেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত কৌশল। মাখোঁর সরকারও যথাযথ সমাধানের পরিবর্তে অভিবাসী ও বামপন্থীদের ওপর দোষ চাপিয়ে নিজের রাজনৈতিক দায় এড়াতে চাইছে। ফ্রান্সের এই সংকট কেবল অভ্যন্তরীণ নয়, বরং বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে তাদের ক্ষীয়মাণ প্রভাব ও ঔপনিবেশিক প্রভাব বলয় হারানোর এক গভীর কাঠামোগত পরিণতির ইঙ্গিত বহন করছে।
সূত্র: প্রথম আলো
