অদম্য মায়ের লড়াই ও এক সন্তানের সার্থকতার গল্প

২০১২ সালে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় বাবাকে হারানোর পর এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিলেন মা ও তিন সন্তান। ৩৮-৩৯ বছর বয়সের সেই তরুণী মায়ের কাঁধে তখন সংসারের অসীম দায়ভার। সরকারি চাকরির পেনশনের সামান্য পুঁজি আর সন্তানদের বড় করার কঠিন সংকল্প নিয়ে শুরু হয় তাঁর নতুন যাত্রা। স্বামীর শেষ অনুরোধ—‘সন্তানদের দেখে রাখবেন’—এই বাক্যটিকে জীবনের মূলমন্ত্র করে দীর্ঘ ১৪ বছর প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করেছেন তিনি। স্কুলে চাকরি করে এবং অমানবিক কষ্টের মধ্য দিয়ে তিনি তিল তিল করে সন্তানদের শিক্ষিত ও স্বাবলম্বী করে তুলেছেন।
আজ তিন সন্তানের সবাই সুপ্রতিষ্ঠিত। বড় ছেলে বহুজাতিক কোম্পানির আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক হিসেবে চায়নায় কর্মরত, দুই মেয়েও সংসারে ও শিক্ষাজীবনে সফল। সম্প্রতি মায়ের প্রথম বিমানযাত্রায় তাঁকে চায়নায় নিয়ে গিয়ে ছেলে নিজের জীবনের পরম সার্থকতা খুঁজে পেয়েছেন। জীবনের সবটুকু কষ্ট ভুলে মা যখন দূর পরবাসে পাহাড় আর সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন, সেই নির্মল আনন্দই ছিল সন্তানের কাছে দীর্ঘ ১৪ বছরের সংগ্রামের প্রকৃত পুরস্কার। অভাব ও প্রতিকূলতাকে জয় করে মা আজ সফলতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
সূত্র: প্রথম আলো
