জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশসেরা টাঙ্গাইলের তিথি: মেধা আর পরিশ্রমের এক অনন্য বিজয়

Spread the love

‎মেহেদী হাসান (সোহেল),টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধিঃ
সাফল্যের কোনো সংক্ষিপ্ত পথ নেই, আর সেই সত্যটিই আবারও প্রমাণ করলেন টাঙ্গাইলের মেয়ে নুসরাত জাহান তিথি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত স্নাতক (অনার্স) দ্বিতীয় বর্ষ থেকে তৃতীয় বর্ষে উত্তীর্ণ হওয়ার পরীক্ষায় সারা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন তিনি। তিথির এই অভাবনীয় সাফল্যে এখন আনন্দের জোয়ার বইছে টাঙ্গাইল সদর ও সখীপুর এলাকায়।

‎মেধার আলোয় উদ্ভাসিত আলিশাকান্দা গ্রাম
‎নুসরাত জাহান তিথি টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নভুক্ত আলিশাকান্দা গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। তাঁর বাবা মো. আলমগীর হোসেন এবং মা শেলি খাতুন। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় ভীষণ মনোযোগী তিথি বরাবরই মেধার স্বাক্ষর রেখে এসেছেন। তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো এত বিশাল ও প্রতিযোগিতামূলক প্ল্যাটফর্মে সারা দেশের মধ্যে প্রথম হওয়াটা তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জনগুলোর একটি।

‎সাফল্যের ধারাবাহিকতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি
‎তিথির এই সাফল্য হুট করে আসা কোনো ঘটনা নয়। তিনি সখীপুর আবাসিক মহিলা কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী ছাত্রী। এর আগেও প্রথম বর্ষ থেকে দ্বিতীয় বর্ষে উত্তীর্ণ হওয়ার পরীক্ষায় কলেজের ১১টি অনার্স বিষয়ের সকল শিক্ষার্থীর মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছিলেন তিনি।
‎কেবল পড়াশোনাতেই নয়, তিথি তাঁর মেধা ও ব্যক্তিত্বের পরিচয় দিয়েছেন নেতৃত্ব দিয়েও। মেধার ভিত্তিতে গঠিত ছাত্র সংসদে তিনি ভিপি (সহ-সভাপতি) পদে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। একজন শিক্ষার্থীর একই সাথে একাডেমিক শ্রেষ্ঠত্ব এবং নেতৃত্বের গুণাবলি থাকা সত্যিই বিরল।

‎সখীপুর আবাসিক মহিলা কলেজের গর্ব
‎তিথির এই সাফল্যে সখীপুর আবাসিক মহিলা কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। বিশেষ করে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ তাকে নিয়ে অত্যন্ত গর্বিত। কলেজের অধ্যক্ষ ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষকমণ্ডলী তিথিকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
‎অধ্যক্ষ মহোদয় এক বার্তায় বলেন, “তিথির এই সাফল্য আমাদের কলেজের মান আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এটি কেবল তার ব্যক্তিগত জয় নয়, বরং আমাদের প্রতিষ্ঠানের সঠিক দিকনির্দেশনা এবং ছাত্রীদের কঠোর পরিশ্রমের প্রতিফলন।

‎ সহপাঠীদের সাফল্য ও অভিনন্দন নুসরাত জাহান তিথি ছাড়াও উক্ত কলেজের ওই বর্ষের আরও বেশ কিছু শিক্ষার্থী প্রথম শ্রেণি (ফার্স্ট ক্লাস) পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। কলেজের পক্ষ থেকে সেই সকল কৃতি শিক্ষার্থীদেরও অভিনন্দন জানানো হয়েছে। শিক্ষকদের মতে, তিথির এই অর্জন বাকি ছাত্রীদের মধ্যেও ভালো ফলাফল করার প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা তৈরি করবে।

‎নিজের এই অর্জনে উচ্ছ্বসিত তিথি। তিনি জানান, এই সাফল্যের পেছনে তাঁর বাবা-মা এবং শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও দোয়া রয়েছে। আগামীতে আরও ভালো ফলাফল করে তিনি দেশ ও মানুষের সেবা করতে চান।
‎টাঙ্গাইলের সাধারণ মানুষ ও তিথির গ্রামবাসী এখন তাকে নিয়ে গর্ব করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অনেকে তাকে শুভেচ্ছায় ভাসাচ্ছেন।

‎ নুসরাত জাহান তিথি প্রমাণ করেছেন, প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও একাগ্রতা ও চেষ্টার মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করা সম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top