ঈদের আনন্দ কবে? চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ১৯ মার্চ, জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে বাংলাদেশে ঈদ ২১ মার্চ
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
সারা দেশে এখন উৎসবের আমেজ। মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার পর পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দে মেতে ওঠার অপেক্ষায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। তবে এবারের ঈদ ঠিক কবে অনুষ্ঠিত হবে, তা নিয়ে জনমনে কৌতূহল ও জল্পনা-কল্পনা বাড়ছে। এই প্রতীক্ষিত প্রশ্নের চূড়ান্ত ও আনুষ্ঠানিক জবাব মিলবে আগামী ১৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায়।
জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৯ রমজান অর্থাৎ ১৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) বাদ মাগরিব বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বসবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী ও কমিটির সভাপতি। দেশের ৬৪টি জেলা থেকে প্রাপ্ত তথ্য, আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রতিবেদন এবং মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য পর্যালোচনা করে এই কমিটি শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবে। যদি ১৯ মার্চ সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে নতুন চাঁদ দেখা যায়, তবে পরদিন ২০ মার্চ (শুক্রবার) পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। আর যদি চাঁদ দেখা না যায়, তবে রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে এবং ঈদ হবে ২১ মার্চ (শনিবার)।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের পূর্বাভাস ও মধ্যপ্রাচ্যের হিসাব
শরীয়তের বিধান অনুযায়ী চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করেই ঈদের চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারিত হবে, তবে আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব-নিকাশ একটি জোরালো পূর্বাভাস দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, এ বছর রমজান মাস ৩০ দিনে পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

ইমেরাতস অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির চেয়ারম্যান এবং বিশিষ্ট জ্যোতির্বিজ্ঞানী ইব্রাহিম আল জারওয়ান জানিয়েছেন, গাণিতিক হিসাব অনুযায়ী ১৮ মার্চ সন্ধ্যায় নতুন চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তবে ১৯ মার্চ ভোরে নতুন চাঁদের জন্ম হবে। সেই দিন সূর্যাস্তের পর নতুন চাঁদ প্রায় ২৯ মিনিট দিগন্তের ওপরে অবস্থান করবে। আকাশ পরিষ্কার থাকলে ওই দিন সন্ধ্যায় চাঁদ দেখার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানের এই হিসাব অনুযায়ী, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পবিত্র ঈদুল ফিতর ২০ মার্চ (শুক্রবার) উদযাপিত হতে পারে। সাধারণত ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশে মধ্যপ্রাচ্যের একদিন পর ঈদ পালিত হয়। সেই দীর্ঘদিনের রেওয়াজ অনুযায়ী, সৌদি আরবে ২০ মার্চ ঈদ হলে বাংলাদেশে ২১ মার্চ (শনিবার) ঈদুল ফিতর হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
সরকারি ছুটি ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুতি
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের এই পূর্বাভাস সরকারের পূর্বপরিকল্পনার সঙ্গেই মিলে যাচ্ছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ও আগে থেকেই ২১ মার্চ সম্ভাব্য ঈদের তারিখ ধরে এ বছরের সরকারি ছুটির ক্যালেন্ডার সাজিয়েছে। ফলে সরকারি অফিস-আদালত এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ছুটি সেই অনুযায়ী নির্ধারিত হয়েছে।
সরকারি ছুটির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আগামী ১৭ মার্চ (মঙ্গলবার) থেকে ২৩ মার্চ (সোমবার) পর্যন্ত একটানা সাধারণ ছুটি থাকবে। এই দীর্ঘ ছুটির কারণে রাজধানীসহ প্রধান শহরগুলো থেকে মানুষ ইতিমধ্যে প্রিয়জনদের সাথে ঈদ উদযাপন করতে নাড়ির টানে গ্রামের বাড়ির পথে রওনা হতে শুরু করেছেন।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা
যদিও জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব এবং সরকারি ক্যালেন্ডার ২১ মার্চ ঈদের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তবুও ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ১৯ মার্চ সন্ধ্যার সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন। ইসলামের বিধান অনুযায়ী, খালি চোখে শাওয়াল মাসের নতুন চাঁদ দেখার মাধ্যমেই রমজানের সমাপ্তি এবং ঈদের সূচনা ঘটে। জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির ঘোষণার পরই নিশ্চিত হবে, এবারের ঈদের জামাত কবে অনুষ্ঠিত হবে। প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ বিবেচনা করে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।
