অপরাধের বিরুদ্ধে ভিডিও বানানোই কি কাল হলো? কসবায় কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে পিটিয়ে হত্যা

Spread the love

নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়াঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকা দ্বীন ইসলাম (৩০) নামে এক তরুণ কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার মেহারী ইউনিয়নের শিমরাইল গ্রামে এই লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে।

নিহত দ্বীন ইসলাম শিমরাইল গ্রামের সফিকুর ইসলামের ছেলে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘তালাশ ক্রাইম দৃষ্টি’ নামক একটি পেজের মাধ্যমে স্থানীয় মাদক কারবার ও বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে ভিডিও তৈরি করতেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে ২০ থেকে ৩০ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দ্বীন ইসলামের বাড়িতে চড়াও হয়। তারা তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় এবং নির্জন স্থানে নিয়ে বেধড়ক মারধর করে। একপর্যায়ে তাকে গুরুতর জখম অবস্থায় বুড়ি নদী পার করে কুমিল্লার বাঙ্গরা থানার গাঙ্গেরকুট এলাকায় ফেলে রেখে যায় হামলাকারীরা।

পরে পরিবারের পক্ষ থেকে ৯৯৯-এ কল করা হলে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। বাঙ্গরা থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে কসবা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। এরপর স্থানীয়দের সহায়তায় কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের স্বজনদের দাবি, এলাকায় মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে ভিডিও প্রকাশ করায় স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র তার ওপর আগে থেকেই ক্ষুব্ধ ছিল। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মো. আবদুল আওয়াল ও তার সহযোগীদের সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছেন তারা। তাদের মতে, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

তবে অভিযুক্ত সাবেক মেম্বার আবদুল আওয়াল তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, তাকে রাজনৈতিকভাবে বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে এই ঘটনায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসানো হচ্ছে।

কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা জানান, প্রাথমিকভাবে আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে, একদল ব্যক্তি দ্বীন ইসলামকে তুলে নিয়ে মারধর করায় তার মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের শনাক্ত করার কাজ চলছে এবং দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

শিমরাইল এলাকায় এ নিয়ে বর্তমানে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top