
রবিউল ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সচরাচর দেখা যায়, নির্বাচনের বৈতরণী পার হওয়ার পর অনেক নেতাই তৃণমূলের কর্মীদের ভুলে যান। কিন্তু সেই প্রথা ভেঙে এক উজ্জ্বল মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন রাজশাহী-৫ (দুর্গাপুর-পুঠিয়া) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যাপক জনাব মোঃ নজরুল ইসলাম মন্ডল। রাজনৈতিক ব্যস্ততা ও রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির মাঝেও তিনি ভুলে যাননি তার দুর্দিনের কাণ্ডারিকে।
জানা গেছে, দুর্গাপুর উপজেলার ৭নং জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও রাজপথের লড়াকু সৈনিক মোঃ দুলাল হোসেন গত ১৬ মার্চ থেকে অসুস্থ হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ১৩নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দীর্ঘ ১০ দিন ধরে অসুস্থতার সাথে লড়াই করা এই ত্যাগী নেতার খবর পৌঁছায় সংসদ সদস্যের কানে।
স্বাধীনতা দিবসের ব্যস্ততা ঠেলে হাসপাতালে
আজ বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ছিল মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। দিনভর নানা রাষ্ট্রীয় ও দলীয় কর্মসূচিতে ব্যাপক ব্যস্ত সময় পার করেন অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। তবে ক্লান্তি তাকে দমাতে পারেনি। সন্ধ্যার ছায়া নামতেই তিনি প্রটোকল ভেঙে সাধারণ মানুষের মতোই ছুটে যান রামেক হাসপাতালে।
হাসপাতালের সাদা চাদরে শুয়ে থাকা অসুস্থ দুলাল হোসেনকে দেখে এমপি মহোদয় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি দীর্ঘক্ষণ তার শয্যাপাশে অবস্থান করেন এবং চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সাথে কথা বলে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করারও তাগিদ দেন তিনি।
এমপি নজরুল ইসলাম মন্ডল শুধুমাত্র চিকিৎসার খোঁজ নিয়েই ক্ষান্ত হননি; তিনি অসুস্থ দুলাল হোসেনের পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের সাহস জোগান। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, যেকোনো প্রয়োজনে তিনি বড় ভাইয়ের মতো পাশে থাকবেন। এ সময় এমপির সাথে উপস্থিত ছিলেন: বিশিষ্ট সমাজসেবক ও দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপি নেতা গোলাম মোর্তজা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রাজু আহমেদ, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীবৃন্দ।
নেতা মানে কেবল নির্দেশ দেওয়া নয়, নেতা মানে কর্মীর সুখে-দুখে ছায়া হয়ে পাশে থাকা। দুলাল আমাদের দলের সম্পদ, তার সুস্থতা আমাদের কাম্য বলেন; অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল, এমপি।
স্বাধীনতা দিবসের ব্যস্ত শিডিউল থেকে সময় বের করে একজন ইউনিয়ন পর্যায়ের কর্মীকে দেখতে হাসপাতালে যাওয়ার এই ঘটনাটি এরই মধ্যে টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ কর্মীদের মতে, এটি বর্তমান সময়ের রাজনীতিতে একটি “ইউনিক” উদাহরণ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তৃণমূলের কর্মীরা তাদের প্রিয় নেতার এই মানবিক আচরণের প্রশংসা করছেন।
অনেকেই বলছেন, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল প্রমাণ করলেন যে তিনি কেবল ভোটের নেতা নন, তিনি সাধারণ মানুষের ও কর্মীদের অন্তরের নেতা। তার এই সফর অসুস্থ কর্মী দুলাল হোসেনকে যেমন মানসিক শক্তি জুগিয়েছে, তেমনি দলের তৃণমূল পর্যায়ে তৈরি করেছে এক অভাবনীয় সেতুবন্ধন।
