
রবিউল ইসলামঃ বাংলাদেশ পুলিশকে একটি আধুনিক, মানবিক ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার সকালে রাজশাহীর সারদায় অবস্থিত বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের শিক্ষানবিস সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমান ইউনিফর্ম নিয়ে খোদ পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের মধ্যেই অসন্তুষ্টি রয়েছে। তিনি বলেন: পুলিশের ঐতিহ্য ও গ্রহণযোগ্যতা বজায় রেখে একটি নতুন পোশাক নির্ধারণের পরিকল্পনা করছে সরকার। বাহিনীর কর্মকর্তাদের মতামতের ভিত্তিতে খুব শীঘ্রই উচ্চপর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দলের ‘লাঠিয়াল বাহিনী’ হিসেবে ব্যবহৃত হবে না। বাহিনীকে আধুনিকায়ন করতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে: পুলিশ বাহিনীকে ঢেলে সাজাতে একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন পুলিশ সংস্কার কমিশন গঠনের কাজ চলছে।নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে মেধা ও যোগ্যতাকে একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ব্রিটিশ আমলের পুরনো আইন বদলে জনবান্ধব ও যুগোপযোগী আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এবারের প্রশিক্ষণে মোট ৭২ জন শিক্ষানবিস সহকারী পুলিশ সুপার (৬৬ জন পুরুষ ও ৬ জন নারী) অংশ নেন। প্যারেড কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন এএসপি আহমেদ সাদমান সাকিব। প্রশিক্ষণে বিশেষ কৃতিত্বের জন্য বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় যেখানে বেস্ট প্রবেশনার ও বেস্ট একাডেমিক এএসপি মোঃ ফাহিম ফয়সাল
বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ এএসপি মোঃ আরাফাত হোসেন, বেস্ট হর্সম্যানশিপ এএসপি শাওন রেজা, বেস্ট শ্যুটার এএসপি বাপী কুমার দাশ।
অনুষ্ঠানে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল, আবু সাঈদ চাদসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ২০২৫ সালের ১ মার্চ শুরু হওয়া এই ব্যাচটি আজকের কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে তাদের পেশাগত জীবনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করলো।

