আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলোর প্রতি চরম ক্ষোভ উগরে দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র আর তাদের জ্বালানি বা নিরাপত্তা নিশ্চিতে একতরফা সহায়তা করবে না। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এবং জ্বালানি সংকটের মধ্যে মিত্রদের ওপর দায় চাপিয়ে তিনি সাফ বলেছেন, এখন থেকে ইউরোপীয় দেশগুলোকে তাদের প্রয়োজনীয় তেল নিজেদেরই সংস্থান করতে হবে।

গত মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন:
“যুক্তরাষ্ট্র আর (ইউরোপকে) সাহায্য করবে না। ইরান কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। কঠিন কাজ শেষ। এখন নিজেদের তেল নিজেরাই জোগাড় করো!”
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন মধ্যপ্রাচ্যের উত্তজনা বিশ্ব অর্থনীতিকে অস্থির করে তুলেছে।
ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ তীব্র রূপ নেওয়ায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ রয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারে:
যুক্তরাষ্ট্রে প্রভাব: জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গ্যালনপ্রতি ৪ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
বৈশ্বিক প্রভাব: ইউরোপসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) এবং অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে বিশাল সামরিক খরচ করলেও মিত্র দেশগুলো পর্যাপ্ত সহযোগিতা করছে না। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি তারা পাশে না থাকে, তবে তাদের নিজেদের লড়াই নিজেদেরই করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প সরাসরি ফ্রান্সের কড়া সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, ইসরায়েলের উদ্দেশ্যে পাঠানো মার্কিন সামরিক সরঞ্জামবাহী বিমানকে নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে দিচ্ছে না প্যারিস। একে ‘মিত্র সুলভ আচরণ নয়’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এর জবাবে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাক্রোর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, ফ্রান্স শুরু থেকেই মধ্যপ্রাচ্য সংকটে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে এবং তারা তাদের সার্বভৌম সিদ্ধান্তে অটল থাকবে।
আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি আটলান্টিক মহাসাগরের দুই তীরের (যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ) দীর্ঘদিনের সামরিক জোট ন্যাটোতে (NATO) বড় ধরনের ফাটল ধরাতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি সংকটের এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা ইউরোপের অর্থনীতিকে আরও পঙ্গু করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উৎস: আল জাজিরা।


