আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

পশ্চিমা এশিয়ায় চলমান ভয়াবহ উত্তেজনা ও সংঘাতের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বিশ্বনেতাদের কঠোর বার্তা দিয়েছেন মালয়েশিয়ার কিংবদন্তি রাজনীতিবিদ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদ। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুদ্ধ কোনো সমাধান নয়; বরং এটি রাষ্ট্রীয় মদদে পরিচালিত এক ধরণের ‘গণহত্যা’।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) এক বিশেষ বিবৃতিতে মাহাথির মোহাম্মদ জানান, সভ্য সমাজে সমস্যার সমাধান হিসেবে মানুষের প্রাণ নেওয়া কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তিনি বলেন:
“মানুষের চিন্তা করার ক্ষমতা আছে, আর সেই ক্ষমতা ব্যবহার করে রক্তপাতহীন বিকল্প পথ খুঁজে বের করা সম্ভব। অথচ আজও রাষ্ট্রগুলো সংঘাত মেটাতে যুদ্ধের মতো আদিম ও ধ্বংসাত্মক পথ বেছে নিচ্ছে—এটি ভাবাই কঠিন।”
ড. মাহাথির সংঘাত নিরসনে তিনটি সুনির্দিষ্ট বিকল্পের কথা উল্লেখ করেছেন:
সরাসরি সংলাপ: বিবাদমান পক্ষগুলোর মধ্যে সরাসরি আলোচনার টেবিলে বসা।
তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা: নিরপেক্ষ কোনো দেশ বা সংস্থার মাধ্যমে সালিশি বৈঠক।
আইনি সমাধান: আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করা।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, যেখানে কম খরচে এবং কম প্রাণহানি ঘটিয়ে সমাধানের পথ খোলা আছে, সেখানে কেন ধ্বংসলীলা চালানো হচ্ছে?
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। পশ্চিম এশিয়ার এই অস্থিতিশীলতা বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থায় (Supply Chain) বিঘ্ন ঘটাচ্ছে এবং নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলছে।
ড. মাহাথির সতর্ক করে বলেন, পরাশক্তিগুলো যদি এখনই সংযত না হয়, তবে এর নেতিবাচক প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিকে এক দীর্ঘস্থায়ী সংকটের মুখে ঠেলে দেবে।
আধুনিক বিশ্বে পেশ পেশিশক্তি নয়, বরং বিচারবুদ্ধি ও আইনি পন্থাই হওয়া উচিত যেকোনো বিরোধ নিষ্পত্তির মূল ভিত্তি। যুদ্ধ মানেই পরাজয়—বিজয়ী বা বিজিত সবার জন্যই।


