
মোঃ কামাল পাশা,ক্রীড়া প্রতিবেদক : দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে আবারও লাল-সবুজের জয়জয়কার। শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে পেনাল্টি শুটআউটে ৪-৩ ব্যবধানে পরাজিত করে দ্বিতীয়বারের মতো সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা ঘরে তুলল বাংলাদেশ।
শুক্রবার মালদ্বীপের মালে জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই রোমাঞ্চকর ফাইনালে নির্ধারিত সময়ের খেলা সমতায় থাকায় ম্যাচ গড়ায় পেনাল্টি শুটআউটে। সেখানে স্নায়ুচাপ ধরে রেখে ভারতকে স্তব্ধ করে উল্লাসে মেতে ওঠে বাংলাদেশের যুবকরা।
পেনাল্টি শুটআউটের শুরুতেই বাংলাদেশের গোলরক্ষক মাহিন অসামান্য দক্ষতায় ভারতের ঋষির নেওয়া প্রথম কিকটি রুখে দিয়ে দলকে আত্মবিশ্বাস এনে দেন। বাংলাদেশের পক্ষে মুরশেদ নিচু ও জোরালো শটে বল জালে জড়িয়ে দলকে এগিয়ে নেন। এরপর ভারতের আরবশ সমতা ফেরালেও চন্দন রায়ের গোলে আবারও লিড পায় বাংলাদেশ।
ভারতের স্যামসন স্কোরলাইন সমান করলেও আব্দুল ফাহিম লক্ষ্যভেদ করে নিজের জার্সিতে চুম্বন এঁকে জয়ের পথ সুগম করেন। ভারতের বিশাল গোল করে আশা বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। ভারতীয় গোলরক্ষক সুরজ সিংকে নির্ধারিত সময়ের মতো শুটআউটেও চোটের কারণে কয়েকবার চিকিৎসা নিতে দেখা যায়।
শেষের দিকে নাটকীয়তা আরও বেড়ে যায় যখন ভারতের স্যামুয়েল রাক্সামের শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। এরপর ওমাং দোদুমের শট গোলপোস্টের অনেক ওপর দিয়ে চলে গেলে সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। শেষ মুহূর্তে রোনান সালিভান অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে ‘পানেঙ্কা’ শটে গোল করে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন।
বাঁশি বাজার সাথে সাথেই মালের স্টেডিয়ামে যেন লাল-সবুজের উৎসব শুরু হয়। খেলোয়াড় ও স্টাফদের চোখে আনন্দ অশ্রু এবং গ্যালারিতে উড়ন্ত পতাকার দৃশ্য ছিল দেখার মতো। অন্যদিকে, ভারতীয় ডাগআউটে ছিল হতাশার ছবি; পরাজয় মেনে নিতে না পেরে অনেককে হতাশায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়।
ভারতের বিপক্ষে এই জয় দেশের ফুটবল ইতিহাসে আরও একটি বর্ণিল উদযাপনের রাত উপহার দিল। দ্বিতীয়বারের মতো এই শিরোপা জয় বাংলাদেশের বয়সভিত্তিক ফুটবলের উন্নতির ধারাবাহিকতাকে আবারও প্রমাণ করল।

