সোমবার (৬ এপ্রিল) দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (এনআইএস)-এর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানান আইনপ্রণেতা পার্ক সুন-ওন। তিনি বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত উত্তর কোরিয়া ইরানকে কোনো অস্ত্র বা সামরিক সহায়তা দেয়নি।

এছাড়া, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বিমান হামলায় নিহত হওয়ার পরও পিয়ংইয়ং কোনো আনুষ্ঠানিক শোকবার্তা দেয়নি, যা কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরও উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে কোনো অভিনন্দন বার্তা পাঠানো হয়নি। এ ঘটনাগুলো দুই দেশের সম্পর্কের শীতলতারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এনআইএস আরও জানায়, যেখানে চীন ও রাশিয়া নিয়মিত প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে, সেখানে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তুলনামূলকভাবে ‘নরম’ অবস্থান নিয়েছে এবং খুব সীমিত বক্তব্য দিচ্ছে।
বিশেষ করে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর প্রতি সরাসরি সমালোচনা থেকেও সরে এসেছে পিয়ংইয়ং, যা কূটনৈতিক নীতির পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে।
গোয়েন্দা বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য কূটনৈতিক সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে এই সংযত অবস্থান গ্রহণ করেছে উত্তর কোরিয়া। বিশেষ করে শি জিনপিং ও ট্রাম্পের সম্ভাব্য বৈঠক সামনে রেখে পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে দেশটি।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব রাজনীতির এই পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে উত্তর কোরিয়ার এমন অবস্থান ভবিষ্যতের কূটনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
তথ্যসূত্র: আল আরাবিয়া
