নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

দুর্গাপুরের কালিগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয়ে এসএসসি ২০২৬ ব্যাচের বর্ণাঢ্য বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে মেধাবৃত্তি প্রদান ও নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণের ঘোষণা দেওয়া হয়।
আবেগ, উচ্ছ্বাস আর আগামীর উজ্জ্বল সম্ভাবনার বার্তা নিয়ে সম্পন্ন হলো দুর্গাপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কালিগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয়ের এসএসসি ২০২৬ ব্যাচের বিদায় ও নবীন বরণ সংবর্ধনা। বছরের এই সময়টি প্রতিবারই বিদায়ের সুর নিয়ে আসে, তবে এবারের আয়োজনটি ছিল অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে আলাদা। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষানুরাগী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিদায় অনুষ্ঠানটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি হয়ে উঠেছিল শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ার এক শক্তিশালী দিক-নির্দেশনা ও উৎসাহের মঞ্চ।
সকাল থেকেই কালিগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছিল। বিদায়ী ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের প্রিয় স্কুল প্রাঙ্গণে শেষবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে সমবেত হয়েছিল। বিদ্যালয়ের মাঠটি সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছিল। রঙিন পতাকায় ঘেরা প্যান্ডেল আর মঞ্চে উপস্থিত অতিথিদের আগমনে পুরো এলাকায় এক প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। একদিকে বিচ্ছেদের সুর, অন্যদিকে উচ্চশিক্ষার পথে পা বাড়ানোর রোমাঞ্চ—শিক্ষার্থীদের চোখে-মুখে ছিল মিশ্র অনুভূতি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৪ নং দেলুয়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সফল চেয়ারম্যান ও দুর্গাপুর থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোঃ গোলাম সাকলায়েন। তিনি তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে এক অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।
তিনি বলেন, “তোমরা কেবল এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নও, তোমরাই আগামীর বাংলাদেশের কর্ণধার। তোমাদের মেধা ও শ্রমই নির্ধারণ করবে আমাদের ভবিষ্যৎ সমাজ কেমন হবে।” বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও মনোযোগী করতে এক বিশাল পুরস্কারের ঘোষণা দেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, কালিগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের এসএসসি ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা মেধা তালিকায় প্রথম ৫ জন জিপিএ-৫ (এ প্লাস) অর্জন করবে, তাদের প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে বিশেষ মেধাবৃত্তি প্রদান করা হবে। তাঁর এই ঘোষণা উপস্থিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনার সৃষ্টি করে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দুর্গাপুর থানা বিএনপির সদস্য সচিব মোঃ জোবায়ের হোসেন। তিনি শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি লক্ষ্য করেন যে, বিদ্যালয়ের বর্তমান অবকাঠামো ক্রমবর্ধমান শিক্ষার্থীর তুলনায় অপ্রতুল। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে তিনি এক ঐতিহাসিক প্রতিশ্রুতি দেন।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, একটি মানসম্মত বিদ্যালয়ের জন্য মানসম্মত ভবন প্রয়োজন। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, অতি দ্রুতই এই বিদ্যালয়ের জন্য একটি নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” তাঁর এই ঘোষণায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন অত্র বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক এবং বর্তমানে রসুলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি মোঃ আব্দুল হান্নান। দীর্ঘ সময় এই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার সুবাদে শিক্ষার্থীদের সাথে তাঁর এক আত্মিক সম্পর্ক বিদ্যমান। তিনি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও সততার সাথে জীবন গড়ার পরামর্শ দেন। তিনি ঘোষণা করেন, মেধা তালিকায় শীর্ষস্থান অধিকারী প্রথম দুই শিক্ষার্থীকে তিনি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ১ হাজার টাকা করে পুরস্কার প্রদান করবেন।

অনুষ্ঠানে ৭নং জয়নগর ইউনিয়ন এবং থানা পর্যায়ের একঝাঁক বলিষ্ঠ রাজনৈতিক নেতৃত্বের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে। উপস্থিত ছিলেন:
মোঃ শফিকুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ৭নং জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপি। মোঃ ইব্রাহিম আলী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ৭নং জয়নগর ইউনিয়ন যুবদল। মোঃ খাইরুল ইসলাম, সহসভাপতি, ৭নং জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপি। মোঃ আতাউর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ৭নং জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপি। মোঃ আকবর আলী, সহসভাপতি, ৭নং জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপি। মোঃ সাহাদ আলী, বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী ও বিএনপি নেতা, মোঃ আফাজ উদ্দিন, সাবেক ওয়াড সভাপতি ও বিএনপি নেতা।
বক্তারা একে একে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দেশপ্রেম ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে কথা বলেন। তারা বলেন, রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত জনসেবা এবং শিক্ষা বিস্তারে সহায়তা করা। স্থানীয় বিএনপির এই শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, এলাকার শিক্ষার উন্নয়নে তারা কতটা একনিষ্ঠ।
বিদায়ী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রী মঞ্চে এসে তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করে। দীর্ঘ কয়েক বছরের কাটানো সময়, শিক্ষকদের স্নেহ আর বন্ধুদের সাথে খুনসুটির স্মৃতি মনে করে অনেকেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে। তারা প্রতিজ্ঞা করে যে, বিদায় অনুষ্ঠানে অতিথিরা যে দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন এবং যে পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন, তা অর্জনে তারা কঠোর পরিশ্রম করবে।


