
পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধি: রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের পথ্য সরবরাহের ই-জিপি (e-GP) টেন্ডারকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সর্বনিম্ন দরদাতা হওয়া সত্ত্বেও কার্যাদেশ না পাওয়ার অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন এক ঠিকাদার।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগীদের পথ্য সরবরাহের জন্য গত ২০ এপ্রিল ই-জিপির মাধ্যমে দরপত্র আহ্বান করা হয়। ওই টেন্ডারে মোট ছয়টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। অভিযোগকারী ঠিকাদার রিসাব হোসেন কেতাবের দাবি, তাঁর প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স হিমেল ন্যাশনাল’ সর্বনিম্ন দর প্রস্তাব করেছিল।
তবে টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে কার্যাদেশ দেওয়া হয় ‘মেসার্স উদয় এন্টারপ্রাইজ’ নামের অন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে। এ ঘটনায় আপত্তি জানিয়ে গত রোববার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন রিসাব হোসেন।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করে দরপত্রে অংশগ্রহণ এবং সর্বনিম্ন দর প্রস্তাব করার পরও তাঁকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়নি। বরং অধিক দরদাতা প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ায় পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তিনি বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভিত্তি প্রকাশের দাবি জানান।
এ ঘটনায় স্থানীয় ঠিকাদার মহলেও আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। তাঁদের মতে, ই-জিপি পদ্ধতিতে টেন্ডার হলেও মূল্যায়নের মানদণ্ড ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া স্পষ্টভাবে তুলে ধরা না হলে এ ধরনের বিতর্ক ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকতে পারে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সূচনা মনোয়ারা। তিনি বলেন, “বর্তমান ই-জিপি ব্যবস্থায় শুধু সর্বনিম্ন দরদাতা হওয়াই কার্যাদেশ পাওয়ার একমাত্র শর্ত নয়। দরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন কারিগরি, প্রশাসনিক ও যোগ্যতাগত বিষয় বিবেচনা করা হয়। সফটওয়্যারভিত্তিক মূল্যায়নের মাধ্যমে উপযুক্ত বিবেচিত প্রতিষ্ঠানকেই কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে।”
তবে অভিযোগকারীর প্রশ্ন, সর্বনিম্ন দরদাতা নির্বাচিত না হওয়ার ক্ষেত্রে কোন মানদণ্ডে অন্য প্রতিষ্ঠানকে যোগ্য বিবেচনা করা হয়েছে, তা প্রকাশ্যে জানানো উচিত।
এদিকে অভিযোগের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত বা পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ নেয় কি না, সেদিকে নজর রাখছেন স্থানীয়রা। সরকারি অর্থে পরিচালিত স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করছেন সচেতন মহল।
