আধুনিক প্রযুক্তির আগেই যেভাবে দইকে ঠান্ডা রাখা হতো

প্রাচীনকালে আধুনিক হিমায়ন ব্যবস্থা বা রেফ্রিজারেটর না থাকলেও, মানুষ তাদের বুদ্ধিমত্তা দিয়ে খাবার সংরক্ষণের উপায় বের করেছিল। বিশেষ করে দইয়ের মতো দুগ্ধজাত খাবারকে দীর্ঘদিন ভালো রাখতে তারা বেছে নিত মাটির পাত্র। পোড়ামাটির সূক্ষ্ম ছিদ্রগুলোর মাধ্যমে বাতাসের সংস্পর্শে জলীয় অংশ বাষ্পীভূত হতো, যা পাত্রের ভেতরের তাপমাত্রাকে বাইরে থেকে শীতল এবং স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করত। এই প্রাকৃতিক শীতলীকরণ প্রক্রিয়াটি দইয়ের গুণমান ও স্বাদ অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য অত্যন্ত কার্যকর ছিল।
শুধু মাটির পাত্রই নয়, দই সংরক্ষণে ব্যবহৃত হতো আরও কিছু সনাতন পদ্ধতি। ভিজে কাপড়ে পাত্রটি জড়িয়ে রাখা অথবা শীতল অন্ধকার ঘরে বা মাটির গভীরে গর্ত খুঁড়ে সেটি লুকিয়ে রাখা হতো। এভাবে তাপমাত্রার তারতম্য নিয়ন্ত্রণ করে দইকে দীর্ঘসময় খাওয়ার উপযোগী করে রাখতেন তৎকালীন মানুষ। কোনো প্রকার যান্ত্রিক শীতলীকরণ ব্যবস্থা ছাড়াই পোড়ামাটির পাত্র ও প্রকৃতির এমন দারুণ ব্যবহার আজও আমাদের পূর্বপুরুষদের উদ্ভাবনী শক্তির পরিচয় দেয়।
সূত্র: প্রথম আলো


