কাঠমিস্ত্রি থেকে কারাবন্দী, এরপর চিকিৎসক: রাজশাহীর শরীফ আহমেদের রূপকথার মতো লড়াই

শৈশবের কাঠমিস্ত্রির কাজ থেকে শুরু করে দীর্ঘ সাত বছরের কারাবাস—শরীফ আহমেদ খানের জীবনের বাঁকবদলের গল্প কোনো সিনেমার চিত্রনাট্যের চেয়ে কম নয়। রাজশাহীর এই বাসিন্দার জীবনে বিপর্যয় নেমে আসে ১৯৭৮ সালে, যখন একটি খুনের মিথ্যা মামলায় তাঁকে আসামি করা হয়। সামরিক আদালতের রায়ে কারাগারে বন্দী হন তিনি। কারাগারে থাকাকালীন ‘৪৫৩৩’ নম্বর কয়েদি হিসেবে পরিচয় পেলেও, ধৈর্য হারাননি শরীফ। কারা অভ্যন্তরে বইয়ের জগতে ডুবে থেকে তিনি জীবনকে নতুন করে দেখার অনুপ্রেরণা পান। গণ-অভ্যুত্থানের পর সামরিক আইন বাতিল হলে নব্বইয়ের দশকের শুরুতে তিনি মুক্তি পান।
জেল থেকে বেরিয়ে অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে তিনি অসম্পূর্ণ এমবিবিএস পরীক্ষা শেষ করেন এবং ১৯৯১ সালে চিকিৎসকের ডিগ্রি অর্জন করেন। যদিও সরকারি চাকরির বয়স পেরিয়ে গিয়েছিল, তবুও বেসরকারি খাতে চিকিৎসা সেবার মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। বর্তমানে ৭৪ বছর বয়সী এই মানুষটি চিকিৎসকের পাশাপাশি একজন সঙ্গীতশিল্পী হিসেবেও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখছেন। ৭২ বছর বয়সে বাংলাদেশ বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবে গান লিখছেন ও সুর করছেন। নিজের বর্ণাঢ্য অথচ সংগ্রামমুখর জীবন নিয়ে তিনি ‘পঁয়তাল্লিশ তেঁত্রিশ’ শিরোনামে আত্মজীবনীও রচনা করেছেন।
সূত্র: প্রথম আলো
