নির্জনতা ভেঙে কেন শিক্ষকতায় ফিরলেন ইমাম গাজালি?

বাগদাদের নিজামিয়া মাদ্রাসার প্রধান অধ্যাপকের পদ ও পার্থিব খ্যাতি ত্যাগ করে ইমাম আবু হামিদ আল-গাজালি দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় অতিবাহিত করেছিলেন নির্জন সাধনায়। দামেস্ক, জেরুজালেম ও মক্কার পবিত্র প্রাঙ্গণে আত্মশুদ্ধির নেশায় মগ্ন এই মনীষী ৪৯৯ হিজরিতে হঠাৎই শিক্ষকতার আঙিনায় ফিরে আসেন। তাঁর এই প্রত্যাবর্তনের পেছনে কোনো জাগতিক মোহ ছিল না; বরং তা ছিল তৎকালীন সমাজের নৈতিক অবক্ষয় ও বিভ্রান্তি দূর করার এক ঐকান্তিক দায়বদ্ধতা। গাজালি উপলব্ধি করেছিলেন, আত্মিক ব্যাধিতে আক্রান্ত সমাজকে পথ দেখানোর জন্য কেবল নির্জনবাসই যথেষ্ট নয়, বরং একজন আধ্যাত্মিক চিকিৎসকের মতো সত্যের বাণী প্রচার করা অপরিহার্য।
তাঁর রচিত ‘আল-মুনকিজ মিনাদ দলাল’ গ্রন্থে তিনি বর্ণনা করেছেন যে, দর্শন, ভ্রান্ত সুফিবাদ ও আলেম সমাজের নৈতিক স্খলনের কারণে সাধারণ মানুষের ইমান হুমকির মুখে পড়েছিল। তিনি চেয়েছিলেন নিজের অর্জিত জ্ঞান দিয়ে সমাজের এই অন্ধকার দূর করতে। ব্যক্তিগত প্রশান্তির চেয়ে আর্তমানবতার কল্যাণকে বড় করে দেখাই ছিল তাঁর প্রত্যাবর্তনের মূল ভিত্তি। ইমাম গাজালির এই ফিরে আসা কেবল একটি পেশাগত সিদ্ধান্ত ছিল না, বরং তা ছিল আধ্যাত্মিক উপলব্ধির এক নতুন পর্যায়। তিনি প্রমাণ করে গেছেন যে, প্রকৃত সাধনা কেবল আত্মকেন্দ্রিকতায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং সমাজের বিপন্ন মানুষকে সত্যের পথে ফিরিয়ে আনার মধ্যেই নিহিত রয়েছে জীবনের প্রকৃত সার্থকতা।
সূত্র: প্রথম আলো
