ল্যাবরেটরিতে তৈরি হবে সামরিক ‘সুপারডগ’, নৈতিক বিতর্কে উত্তাল বিজ্ঞানমহল

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসভিত্তিক স্টার্টআপ ‘ওয়ারহাউন্ড’ সামরিক বাহিনীর ব্যবহারের উপযোগী অত্যাধুনিক ‘সুপারডগ’ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। জিন-এডিটিং এবং ক্লোনিং প্রযুক্তির মাধ্যমে তারা এমন কুকুর তৈরি করতে চায়, যা হবে সাধারণ কুকুরের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী, নিখুঁত এবং রোগমুক্ত। প্রতিষ্ঠানটি বেলজিয়ান ম্যালিনয় ও শেফার্ডের মতো চৌকস প্রজাতির ডিএনএ সংগ্রহ করেছে এবং ২০২৭ সালের শুরুর দিকে ল্যাবরেটরিতে তৈরি প্রথম ব্যাচ নিয়ে আসার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তাদের দাবি, জিনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে বয়সের কারণে হওয়া রোগবালাই ও শারীরিক সীমাবদ্ধতা দূর করে কুকুরগুলোর কার্যক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।
তবে এই প্রকল্পের বৈজ্ঞানিক ও নৈতিক দিক নিয়ে তীব্র সমালোচনা উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, ক্লোনিং বা জিনগত পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জটিল এবং অদক্ষ, যা অসংখ্য প্রাণীর শারীরিক যন্ত্রণার কারণ হতে পারে। ল্যাবরেটরিতে সফল একটি প্রাণীর জন্ম দিতে গিয়ে গর্ভধারিণী মা কুকুর এবং ভ্রূণকে চরম ঝুঁকির মুখে পড়তে হয়। এ ছাড়া জিনের সামান্য বিচ্যুতি ভয়াবহ মিউটেশনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কোটি ডলারের বাণিজ্যের আশায় প্রাণীদের গিনিপিগ বানানোর এই প্রক্রিয়ায় বিজ্ঞানের নৈতিক সীমানা লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে। সব মিলিয়ে, সামরিক প্রয়োজনে এই ‘সুপারডগ’ তৈরির পরিকল্পনা মানবসভ্যতার জন্য আশীর্বাদ নাকি বড় কোনো বিপর্যয় ডেকে আনবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
সূত্র: প্রথম আলো
