জাতীয় নিরাপত্তা ও আদর্শ রক্ষায় ইরানে সামরিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ‘জানফাদা’

ইরান সরকার দেশের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক হুমকি মোকাবিলায় ‘জানফাদা’ নামক একটি নতুন গণসংগঠিতকরণ কর্মসূচি জোরদার করছে। ‘জীবন উৎসর্গকারী’ অর্থবোধক এই কর্মসূচির আওতায় সাধারণ নাগরিকদের সামরিক প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র ব্যবহারের কলাকৌশল শেখানো হচ্ছে। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অধীনে বাসিজ মিলিশিয়ারা দেশের বিভিন্ন প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ চত্বরে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করেছে। কর্মসূচিতে সব বয়সী মানুষ অংশ নিতে পারলেও তরুণ ও নারীদের অংশগ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, রাতের বেলা বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে বিপ্লবী গানের পাশাপাশি নিয়মিতভাবে অস্ত্র চালনা ও লক্ষ্যভেদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের দাবি, এই কর্মসূচিতে তিন কোটির বেশি ইরানি নিবন্ধন করেছেন, যদিও বিভিন্ন মানবাধিকার গোষ্ঠী ও বিশ্লেষকদের কাছে এই তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে সংশয় রয়েছে। সরকার এটিকে বিপ্লবের মূল্যবোধ রক্ষার মাধ্যম হিসেবে তুলে ধরলেও মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, এর আড়ালে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করার চেষ্টা চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতির চাপে থাকা শাসনব্যবস্থায় নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান সুসংহত করতে এবং সমর্থকদের মাঝে আদর্শিক আনুগত্য দৃঢ় করতে সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে। আগামীতে এই স্বেচ্ছাসেবকদের উদ্ধারকাজসহ বিভিন্ন সরকারি কাজে যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
সূত্র: প্রথম আলো
