নাইজেরিয়ার বোর্ডিং স্কুলে ইঁদুরের উপদ্রব: এক ভীতিজাগানিয়া স্মৃতিকথা

নব্বইয়ের দশকে নাইজেরিয়ার একটি বোর্ডিং স্কুলে থাকাকালীন অভিজ্ঞতার এক ভয়াবহ অধ্যায় ছিল ইঁদুরের অবাধ বিচরণ। হাজার হাজার শিক্ষার্থীর জন্য নিয়ে আসা মজুত খাবার, যেমন কর্নফ্লেক্স, চিনি বা দুধের গুঁড়ো ইঁদুরদের জন্য হয়ে উঠেছিল লোভনীয় ভোজ। শিক্ষার্থীদের অসাবধানতায় অল্প কিছু খাবার ইঁদুরদের নাগালে যাওয়ায় দ্রুত তাদের সংখ্যা ও শারীরিক সক্ষমতা বাড়তে থাকে। হোস্টেলের পাশের মাঠে গোধূলি বেলায় শত শত ইঁদুরের জমায়েত যেন কোনো এক রহস্যময় রাজনৈতিক সভার দৃশ্য তৈরি করত।
শুরুতে মানুষের পদধ্বনি শুনলেই ইঁদুরগুলো পালিয়ে যেত, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর খাবার খেয়ে ইঁদুরগুলো আকারে বেশ বড় ও সাহসী হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে হাততালি দিয়ে বা পা ঠুকে শব্দ করলেও তারা আর জায়গা ছাড়তে চাইত না, বরং মানুষের সামনেই নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখত। সাধারণ উপদ্রব থেকে ইঁদুরগুলো যেন এক ভীতিজনক শিকারি প্রাণীতে পরিণত হয়েছিল, যা শিক্ষার্থীদের জন্য এক দুঃস্বপ্নের মতো অভিজ্ঞতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান


