নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দেশের দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির চাপ সামলাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালুর জোরালো উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি আর্থিক ও প্রয়োজনীয় খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে প্রকৃত অভাবী পরিবারগুলোর কাছে।

ফ্যামিলি কার্ডের মূল লক্ষ্য হলো পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। এর বিশেষ দিকগুলো হলো:
- নগদ অর্থ সহায়তা: নিয়মিতভাবে কার্ডধারীদের একাউন্টে নগদ টাকা পৌঁছে দেওয়া হবে।
- নারীর ক্ষমতায়ন: সহায়তার টাকা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরিবারের নারী সদস্য বা গৃহকর্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
- পণ্যের জোগান: নগদ অর্থের পাশাপাশি সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের সুযোগও থাকতে পারে।
পুরোদমে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই সম্ভাব্য উপকারভোগীদের কিছু প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবেদন করতে প্রাথমিকভাবে যা যা প্রয়োজন হবে:
১. জাতীয় পরিচয়পত্র (NID): আবেদনকারীর এনআইডি কার্ডের ফটোকপি।
২. রঙিন ছবি: পাসপোর্ট সাইজের সদ্য তোলা রঙিন ছবি।
৩. মোবাইল নম্বর: একটি সচল মোবাইল নম্বর (পরবর্তীতে মোবাইল ব্যাংকিং বা যোগাযোগের জন্য)।
আবেদন করার নিয়ম ও প্রক্রিয়া সরকার এনআইডি-র ভিত্তিতে একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেস তৈরি করছে যাতে একই ব্যক্তি বারবার সুবিধা না নিতে পারে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হয়।
- আবেদন কেন্দ্র: পাইলট প্রকল্প শেষে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয় থেকে ফরম সংগ্রহ করা যাবে।
- অনলাইন পোর্টাল: প্রযুক্তিনির্ভর স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ঘরে বসে আবেদনের জন্য একটি বিশেষ পোর্টাল চালুর কাজও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এই কার্যক্রম সুচারুভাবে পরিচালনার জন্য সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীকে সভাপতি করে ১৫ সদস্যের একটি শক্তিশালী মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। কমিটিতে সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন বিভাগের সচিব ও উপদেষ্টাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রতি পরিবারে কেবল একটি কার্ড ইস্যু করা হবে। প্রাথমিকভাবে নির্দিষ্ট এলাকায় পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে শুরু হয়ে পরবর্তীতে এটি সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
