
সম্পাদকীয় কলামঃ বাংলার চিরায়ত উৎসব মানেই নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা। কিন্তু প্রতিবছর এই আনন্দযাত্রার সমাপ্তি ঘটে কোনো না কোনো স্বজনের কান্নায়। আমরা দেখছি, কর্মস্থল থেকে ছুটি পাওয়ার পর এক অদ্ভুত উন্মাদনায় মানুষ ছুটছে গ্রামের পানে। তবে এই ছোটা কি শুধুই ঘরে ফেরার, নাকি অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো পরিণতির দিকে?
বর্তমানে ঈদ যাত্রার সাধারণ চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে ট্রেন, বাস বা লঞ্চের ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী হওয়া। ট্রেনের ছাদে, বাসের ল্যাডার ধরে কিংবা ট্রাকের ওপর গাদাগাদি করে যখন সাধারণ মানুষ যাতায়াত করে, তখন তারা জেনে বুঝেই জীবনের ঝুঁকি নিচ্ছে। আমাদের মনে রাখা দরকার, একটি জীবন কোনোভাবেই একটি উৎসবের চেয়ে ছোট নয়।
“আপনার ১ ঘণ্টা বা ১ দিন দেরিতে পৌঁছালে পরিবার হয়তো ক্ষণিকের জন্য অভিমান করবে, কিন্তু আপনি যদি লাশ হয়ে বাড়ি ফেরেন, তবে সেই পরিবারটি সারাজীবনের জন্য নিঃস্ব হয়ে যাবে।”
দুর্ঘটনার বড় একটি কারণ হলো চালকদের ক্লান্তি ও অসচেতনতা। বাড়তি আয়ের আশায় অনেক সময় চালকরা টানা কয়েক শিফট গাড়ি চালান। ঘুমাচ্ছন্ন চোখে স্টিয়ারিং ধরা মানেই মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়া। একজন অসচেতন চালক শুধু নিজের বা যাত্রীদের নয়, বরং কয়েকশ পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দেন। পরিবহণ মালিক ও চালকদের বুঝতে হবে, মুনাফার চেয়ে জীবনের দাম অনেক বেশি।
নিরাপদ ঈদ যাত্রার জন্য সরকার ও প্রশাসনের কড়াকড়ি যেমন প্রয়োজন, তার চেয়ে বেশি প্রয়োজন ব্যক্তিগত সচেতনতা।
বাস বা ট্রেন পূর্ণ থাকলে পরবর্তী যানের জন্য অপেক্ষা করুন। ঝুঁকিপূর্ণ বাহন এড়িয়ে চলুন। ট্রাক বা খোলা ভ্যানে যাতায়াত পরিহার করুন। দ্রুত পৌঁছানোর প্রতিযোগিতায় চালককে তাড়া দেবেন না।
ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে হাসি। কিন্তু এই হাসি যেন বিষাদে রূপ না নেয়। আপনি বেঁচে থাকলে প্রতি বছর ঈদ আসবে, হাজার বার নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে পারবেন। তাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নয়, বরং নিরাপদ উপায়ে বাড়ি ফিরুন। মনে রাখবেন, আপনার ফেরার অপেক্ষায় জানালার গ্রিল ধরে কেউ একজন আজও পথ চেয়ে আছে। সেই অপেক্ষা যেন শেষ না হয় কোনো মর্মান্তিক আহাজারিতে।
