চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ
পবিত্র মাহে রমজানের বিদায় ঘণ্টা বাজছে। চারদিকে এখন শুধু ঈদের আবহ। কেউ কিনছেন নতুন পোশাক, কেউ ব্যস্ত সেমাই-চিনির কেনাকাটায়। মা-বাবা আর ভাই-বোনের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার প্রস্তুতি যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই সমাজের একদল সুবিধাবঞ্চিত মুখ চেয়ে থাকে একটু সহানুভূতির আশায়। সেইসব অভিভাবকহীন ও নিস্পাপ শিশুদের ঈদ আনন্দকে রাঙিয়ে দিতে মমতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)।

বুধবার (১৮ মার্চ) সকালে গোমস্তাপুর উপজেলার চকপুস্তম এলাকার একটি শিশু সদনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এতিম শিশুদের মাঝে ঈদ উপহার ও বিশেষ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক।
আজ সকাল ১০:২০ ঘটিকায় চকপুস্তম শিশু সদনের আঙিনায় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল গোলাম কিবরিয়া, বিজিবিএম, বিজিওএম সশরীরে উপস্থিত হয়ে শিশুদের হাতে তুলে দেন নতুন পোশাক। শুধু পোশাকেই সীমাবদ্ধ ছিল না এই আয়োজন; ঈদের দিনের বিশেষ খাবারের জন্য শিশুদের দেওয়া হয়েছে:
সুগন্ধি পোলাও চাল,সেমাই ও চিনি, ভোজ্য তেল, অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাদ্য উপকরণনতুন কাপড়ের ঘ্রাণ আর ঈদের দিনের উন্নত খাবারের নিশ্চয়তা পেয়ে শিশুদের মলিন মুখে ফুটে ওঠে অনাবিল প্রশান্তির হাসি। মুহূর্তেই এতিমখানার নিস্তব্ধ আঙিনা মুখরিত হয়ে ওঠে শিশুদের কলকাকলিতে।
উপহার সামগ্রী বিতরণ শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন লেঃ কর্নেল গোলাম কিবরিয়া। শিশুদের সাথে সময় কাটানোর পর কিছুটা আবেগপ্রবণ কণ্ঠে তিনি বলেন:
“এই এতিম শিশুদের মুখে একটুখানি হাসি ফোটাতে পারা—একজন মানুষ হিসেবে এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আমার কাছে আর কিছু হতে পারে না। এই শিশুরাই আমাদের সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের আনন্দই আমাদের প্রকৃত ঈদ আনন্দ।”
তিনি আরও যোগ করেন যে, বিজিবি সবসময় সীমান্তে অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি মানবিক ও জনহিতকর কাজে সাধারণ মানুষের পাশে থাকতে অঙ্গীকারবদ্ধ। সমাজের বিত্তবানরা যদি যার যার অবস্থান থেকে এভাবে এগিয়ে আসেন, তবে কোনো শিশুই নিজেকে একা বা অসহায় মনে করবে না।
৫৯ বিজিবির এই মানবিক উদ্যোগটি স্থানীয় মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। চকপুস্তম এলাকার সাধারণ মানুষ এবং শিশু সদন কর্তৃপক্ষ জানান, বিজিবির এই মমতা শুধু বস্তুগত অভাব পূরণ করেনি, বরং শিশুদের মনের কোণে জন্ম দিয়েছে ‘আমরা একা নই’—এমন এক আশার আলো। এলাকাবাসী মনে করছেন, অধিনায়কের এই দৃষ্টান্তমূলক কাজ সমাজের অন্যান্য বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের দুস্থ মানুষের সেবায় অনুপ্রাণিত করবে।
সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে ৫৯ বিজিবি’র এমন কাজ দেশের বেসামরিক অঙ্গনে বাহিনীর ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করেছে। শিশুদের চোখেমুখে লেগে থাকা সেই তৃপ্তির হাসিই ছিল আজকের এই আয়োজনের সার্থকতা।
