ছুটিতেও বিরামহীন প্রধানমন্ত্রী: বাসভবন থেকেই তদারকি করছেন দেশজুড়ে উন্নয়ন ও জনসেবা

Spread the love

ছুটিতেও বিরামহীন প্রধানমন্ত্রী: বাসভবন থেকেই তদারকি করছেন দেশজুড়ে উন্নয়ন ও জনসেবা

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সারা দেশে চলছে টানা সাত দিনের সরকারি ছুটি। নাড়ির টানে মানুষ শহর ছেড়ে গ্রামে ফিরছে, অফিস-আদালত বন্ধ হয়ে জনজীবনে উৎসবের আমেজ শুরু হয়েছে। তবে উৎসবের এই লগ্নেও বিন্দুমাত্র বিশ্রাম নেই সরকারের শীর্ষ পজিশনে। দেশ ও জনস্বার্থে ছুটির মধ্যেও বিরামহীন কাজ করে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

গুলশানে নিজ বাসভবনে অবস্থান করলেও সেখান থেকেই তিনি সরকারের জরুরি নথিপত্র সই করা থেকে শুরু করে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের তদারকি ও দিকনির্দেশনা প্রদান করছেন।

বাসভবন এখন ‘মিনি সচিবালয়’

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন গণমাধ্যমকে জানান, গত ১৭ মার্চ থেকে ঈদের সরকারি ছুটি শুরু হলেও প্রধানমন্ত্রীর কাজের রুটিনে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তিনি গুলশান এভিনিউ’র বাসভবন থেকে গুরুত্বপূর্ণ সব সরকারি ফাইল পর্যালোচনা ও অনুমোদন দিচ্ছেন। বিশেষ করে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো যাতে ঝুলে না থাকে, সেদিকে তাঁর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রয়েছে।

প্রেস সচিব বলেন, “প্রধানমন্ত্রী কেবল ফাইল সই করছেন না, বরং দেশের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কেও প্রতিনিয়ত খোঁজ-খবর রাখছেন। কোথায় কী হচ্ছে, সাধারণ মানুষের সমস্যা কী—সবই তাঁর নখদর্পণে রয়েছে।”

খাল খনন কর্মসূচি: অগ্রাধিকার পাচ্ছে কৃষি ও পরিবেশ

প্রধানমন্ত্রীর এবারের ছুটির দিনগুলোর অন্যতম প্রধান মনোযোগের বিষয় হলো দেশজুড়ে চলমান ‘খাল খনন কর্মসূচি’। কৃষিখাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে এই প্রকল্পটিকে তিনি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী বাসভবন থেকেই এই কর্মসূচির অগ্রগতি যাচাই করছেন। কাজের গতি কেমন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হবে কি না—এসব বিষয় তিনি সরাসরি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলে তদারকি করছেন। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেও তিনি কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন।

পরিচ্ছন্ন নগরী গড়তে মেয়রদের বিশেষ নির্দেশনা

ঈদের এই সময়ে শহরগুলোর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে সিটি করপোরেশন এলাকাগুলোতে যাতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জনস্বাস্থ্য সেবা বিঘ্নিত না হয়, সেজন্য প্রধানমন্ত্রী সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছেন।

তিনি দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের মেয়র ও প্রশাসকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করছেন। নগরবাসীকে ঈদের আনন্দ উপহার দেওয়ার পাশাপাশি শহরগুলোকে ঝকঝকে রাখতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রতিমন্ত্রীদের সঙ্গেও এ বিষয়ে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রয়েছে।

ছুটির আগের ব্যস্ততা ও মন্ত্রিসভার বৈঠক

উল্লেখ্য যে, সরকারি ছুটি শুরু হওয়ার পরও প্রধানমন্ত্রীর কর্মব্যস্ততা কমেনি। গত মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ছুটির প্রথম দিন হলেও তিনি সচিবালয়ে সশরীরে অফিস করেছেন। সেদিন তিনি গুরুত্বপূর্ণ ‘কৃষক কার্ড বাস্তবায়ন কমিটি’র সভায় সভাপতিত্ব করেন এবং মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকেও অংশ নেন। কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে তিনি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কৃষক কার্ড বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেই স্বপ্ন পূরণে তিনি একনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন।

জনসাধারণের মন্তব্য

১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত দীর্ঘ এই ছুটির মধ্যেও প্রধানমন্ত্রীর এমন কর্মস্পৃহা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সাধারণ মানুষের মাঝে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। সাধারণ জনগণ মনে করছেন, সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে এমন তদারকি চলমান থাকলে মাঠ পর্যায়ের কাজে স্থবিরতা আসবে না এবং দেশ উন্নয়নের সঠিক পথে এগিয়ে যাবে।

বিরাজমান উৎসবের আমেজের মাঝেও জনসেবাকেই সবার উপরে স্থান দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রমাণ করলেন যে, দেশের সেবায় কোনো ছুটির অবকাশ নেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top