মান্দা নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর মান্দা উপজেলা-এ চোর সন্দেহে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে একটি ক্বওমী মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে। বুধবার (৫ মার্চ) রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার প্রসাদপুর দারুল উলুম ইসলামিয়া ক্বওমী মাদ্রাসা চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত যুবকের নাম রফিকুল ইসলাম (২৫)। তিনি মান্দা সদর ইউনিয়নের জিনারপুর গ্রামের মৃত জেহের আলীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে মাদ্রাসা চত্বর থেকে রফিকুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নওগাঁ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
মাদ্রাসার ক্বারী শিক্ষক সাব্বির হোসেন জানান, রাত সোয়া দুইটার দিকে ছাত্র পারভেজকে নিয়ে সাহরির রান্নার জন্য রান্নাঘরের দিকে যাচ্ছিলেন তিনি। এ সময় রান্নাঘর থেকে অচেনা এক যুবক বের হয়ে আসতে দেখেন। সন্দেহ হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় ওই যুবক পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া দিয়ে তাকে আটক করা হয়।
তিনি বলেন, পরে গাছের ডাল দিয়ে তাকে মারধর করা হয়। হইচই শুনে আরও কয়েকজন শিক্ষক এসে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। একপর্যায়ে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।
মাদ্রাসার পাশের বাসিন্দা আসলাম হোসেন বলেন, ফজরের নামাজ আদায়ের জন্য মাদ্রাসার ভেতরের মসজিদে গিয়েছিলেন তিনি। তবে ভেতরে এমন ঘটনা ঘটেছে তা তিনি কিছুই জানতে পারেননি।
মাদ্রাসার মহাতামিম মাসুদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে মাদ্রাসায় গিয়ে এক যুবককে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে কিছু সময়ের মধ্যেই তিনি মারা যান।
এ বিষয়ে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম মাসুদ রানা বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হাত বাঁধা অবস্থায় রফিকুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নওগাঁ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।
