নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
আধুনিক নাগরিক জীবনের ব্যস্ততা আর কৃত্রিমতার ভিড়ে আমরা অনেকেই ভুলে যেতে বসেছি আমাদের শেকড়। কিন্তু সেই পুরনো ঐতিহ্যকে রাঙিয়ে তুলতে এবং বন্ধুত্বের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করতে এক ব্যতিক্রমী ইফতার আয়োজনের সাক্ষী হলো স্থানীয় এলাকাবাসী। দীর্ঘ দিন পর একদল প্রাণচঞ্চল বন্ধুর পুনর্মিলনীতে ইফতারের থালা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী কলার পাতা।
ঐতিহ্যের ছোঁয়ায় অন্যরকম ইফতার
গতকাল সূর্যাস্তের ঠিক আগ মুহূর্তে দেখা গেল এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। সারিবদ্ধভাবে বিছানো হয়েছে সবুজ কলার পাতা। তার ওপর সাজানো হয়েছে মুড়ি, পেঁয়াজু, বেগুনি, ছোলা আর বাহারি ফল। প্লাস্টিক বা সিরামিকের আভিজাত্যকে দূরে ঠেলে মাটির কাছাকাছি হওয়ার এই প্রয়াস সবার নজর কেড়েছে। বন্ধুদের এই মিলনমেলায় কেবল খাবার ভাগ করে নেওয়া হয়নি, ভাগ করে নেওয়া হয়েছে শৈশবের স্মৃতি আর হারানো দিনের গল্প।
আয়োজকদের নিরলস প্রচেষ্টা
এই বর্ণাঢ্য আয়োজনটি সফল করতে নেপথ্যে থেকে কাজ করেছেন একঝাঁক উদ্যমী তরুণ। অনুষ্ঠানের সার্বিক তদারকি ও ব্যবস্থাপনায় বিশেষ দায়িত্ব পালন করেন মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম বাবু ও মোঃ মোস্তফা কামাল। তাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পরিশ্রম করেছেন মোহাম্মদ জাহিদ হাসান এবং মোহাম্মদ মাইনুল হোসেন। তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় পুরো অনুষ্ঠানটি একটি সুশৃঙ্খল ও আনন্দঘন উৎসবে পরিণত হয়।
আয়োজকদের একজন বলেন, “আমরা চেয়েছিলাম যান্ত্রিক এই শহরে একটু ভিন্নভাবে সময় কাটাতে। কলার পাতায় খাওয়ার মাঝে যে তৃপ্তি আর একাত্মতা আছে, তা অন্য কোথাও নেই।

আনন্দ ও উদ্দীপনার জোয়ার
দীর্ঘদিন পর বন্ধুদের কাছে পেয়ে প্রত্যেকের মাঝেই এক অন্যরকম আনন্দ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা বন্ধুরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। ইফতারের পূর্ব মুহূর্তে দোয়া ও মোনাজাতে তারা সকলের মঙ্গল কামনা করেন। কেবল খাবার খাওয়াই মূল লক্ষ্য ছিল না, বরং ভ্রাতৃত্বের এই বন্ধন যেন অটুট থাকে—এটাই ছিল সবার প্রত্যাশা।
কলার পাতার গুরুত্ব ও সামাজিক বার্তা
বর্তমানে পরিবেশ দূষণ রোধে প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে কলার পাতার ব্যবহার একটি চমৎকার দৃষ্টান্ত। এই আয়োজনটি তরুণ প্রজন্মের কাছে বার্তা দেয় যে, নিজেদের সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যকে লালন করার মাধ্যমেই প্রকৃত আনন্দ খুঁজে পাওয়া সম্ভব। উপস্থিত অতিথিরাও এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, এমন আয়োজন সামাজিক সম্প্রীতি বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখে।
বন্ধুদের এই মিলনমেলা প্রমাণ করে দিল যে, ভালোবাসা আর আন্তরিকতা থাকলে সাদামাটা আয়োজনেও রাজকীয় সুখ খুঁজে পাওয়া যায়। কলার পাতার সেই সুবাস আর বন্ধুদের অকৃত্রিম আড্ডা যেন স্মৃতির পাতায় এক অমলিন ছবি হয়ে থাকবে।


