সংসদ প্রতিবেদকঃ
বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রে যুক্ত হলো এক নতুন মাইলফলক। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্যদের (এমপি) সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেলে সংসদ অধিবেশনে এই ঐতিহাসিক পর্বটি অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বুধবার বেলা সাড়ে ৩ টায় প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত ৩০ মিনিটের এই প্রশ্নোত্তর পর্ব বরাদ্দ করা হয়। এর মাধ্যমে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সংসদীয় কার্যক্রমে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি জবাবদিহিতার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।
আজকের মুলতবি অধিবেশনে একজন সংসদ সদস্য সপ্তাহের একটি নির্দিষ্ট দিন, বিশেষ করে প্রতি বুধবার প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রশ্নোত্তর পর্ব বরাদ্দের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তিনি যুক্তি দেন যে, এর ফলে সংসদীয় কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত হবে এবং জনগণের কাছে সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।
স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ প্রস্তাবটি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেন এবং সংসদ সচিবালয়ের কার্যতালিকায় আজকের জন্য ৩০ মিনিট বরাদ্দ করার নির্দেশ দেন। স্পিকার জানান, আগামীতে বিষয়টি স্থায়ীভাবে কার্যপ্রণালী বিধিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব চালুর মাধ্যমে সংসদ কার্যকর করার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। এর ফলে:
জবাবদিহিতা: সংসদ সদস্যরা সরাসরি রাষ্ট্রপ্রধানকে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশ্ন করার সুযোগ পাবেন।
স্বচ্ছতা: সরকারের নীতিনির্ধারণী বিষয়ে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে ব্যাখ্যা আসবে।
গণতান্ত্রিক চর্চা: এটি সংসদীয় ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করে তুলবে।
এদিন সংসদ অধিবেশনে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন সংসদীয় প্রশ্নের উত্তর দিতে দাঁড়ান, তখন অধিবেশনে এক উৎসবমুখর এবং কৌতূহলপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
