নিজস্ব প্রতিবেদক, দুর্গাপুর (রাজশাহী): আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ ছড়িয়ে দিতে এবং উপজেলার প্রান্তিক ও অতিদরিদ্র মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজশাহীর দুর্গাপুরে সরকারি মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে ভিজিএফ (VGF) চাল বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে উপজেলার জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে এক উৎসবমুখর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে এই কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান আকর্ষণ ও বিশেষ তদারকিতে ছিলেন জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাহাবুব রহমান সান্টু। তিনি উপস্থিত থেকে প্রতিটি পরিবারের হাতে চাল তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণ করেন এবং সাধারণ মানুষের সুবিধা-অসুবিধার খোঁজখবর নেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ নির্দেশনায় আয়োজিত এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো ঈদের সময় যেন কোনো পরিবার খাদ্য সংকটে না থাকে। জয়নগর ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডের অতিদরিদ্র ও দুস্থ পরিবারগুলোকে বাছাই করে এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাহিদ ইসলাম জানান, চলতি বছর জয়নগর ইউনিয়নের মোট ৮৩৪টি দরিদ্র ও অতিদরিদ্র পরিবারের মাঝে এই ভিজিএফ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী প্রতিটি কার্ডধারী পরিবারকে ১০ কেজি করে উচ্চমানের চাল প্রদান করা হয়। বিতরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ছিল।
চাল বিতরণ কার্যক্রম তদারকি করতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আইসিটি অফিসার মেহেদী হাসান। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাহাবুব রহমান সান্টু, যার প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে বিতরণ কার্যক্রমটি অত্যন্ত সুচারুভাবে সম্পন্ন হয়। অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন:
৭নং জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমীন। উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী রুপালি খাতুন। মহিলা ইউপি সদস্য ববিতা বেগম ও রিফা আক্তারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং ইউপি সদস্যগণ।
অনুষ্ঠানে জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাহাবুব রহমান সান্টু তার বক্তব্যে বলেন, “পবিত্র ঈদুল ফিতর হলো ত্যাগের ও আনন্দের উৎসব। দ্রব্যমূল্যের এই উর্ধ্বগতির সময়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সরকারের এই ১০ কেজি চালের সহায়তা গ্রামীণ দরিদ্র মানুষের ঈদের আনন্দকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেবে। আমরা চেষ্টা করছি যেন প্রকৃত হকদাররা এই সুবিধা পান।”
সহায়তা নিতে আসা উপকারভোগীরা এই উদ্যোগে অত্যন্ত খুশি। চাল হাতে পেয়ে এক বৃদ্ধা আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “ঈদের আগে চালগুলো পেয়ে আমাদের খুব উপকার হলো। এখন অন্তত নিশ্চিন্তে পরিবারের সাথে দুবেলা ভালো খেয়ে ঈদ কাটাতে পারবো।” উপস্থিত অন্যান্য নেতারা জানান, ঈদকে সামনে রেখে দরিদ্র মানুষের কষ্ট লাঘব করতে এই ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।বিকেল পর্যন্ত চলে এই বিতরণ কার্যক্রম, যেখানে কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা ছাড়াই শত শত মানুষ তাদের প্রাপ্য ঈদ উপহার গ্রহণ করেন।
