নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী: রাজশাহীর পুঠিয়ায় বসত ভিটার মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে আবারো রক্তে রঞ্জিত হয়েছে রণক্ষেত্র। অভিযোগ উঠেছে, আদালতে চলমান মামলার শুনানি ঠেকাতে এবং প্রতিপক্ষকে এলাকাছাড়া করতে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। গত ১১ মার্চ দুপুরে উপজেলার ধোপাপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী আব্দুস সালাম (৫০) জানান, প্রতিবেশী আফসার আলীর সাথে তাদের দীর্ঘদিন ধরে বসত ভিটা নিয়ে মামলা চলছে। নিম্ন আদালত ও আপিলে আব্দুস সালামের পরিবার ডিগ্রি (মালিকানা) পেলেও প্রতিপক্ষ পুনরায় আপিল করে। যার পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য ছিল ১২ মার্চ ২০২৬। কিন্তু শুনানির ঠিক আগের দিন ১১ মার্চ দুপুরে, বাড়িতে পুরুষদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে প্রতিপক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা চালায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, আফসার আলী (৬০) ও তার দুই ছেলে মুন্না ও শান্তসহ প্রায় ১০-১২ জন সশস্ত্র অবস্থায় বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাট শুরু করে। এসময় বাড়ির মহিলারা বাধা দিলে তাদের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে চড়াও হয় হামলাকারীরা।
হামলায় আব্দুস সালামের স্ত্রী সাজেদা, দুই পুত্রবধূ তানিয়া ও লিনআরাসহ পরিবারের অন্তত ৭ জন গুরুতর আহত হন।
আহতদের চিৎকার শুনে স্বজনরা এগিয়ে এলে তাদেরও কুপিয়ে জখম করা হয়। বর্তমানে আব্দুস সালামের বড় ভাই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের আইসিইউতে (ICU) মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, পরিবারটি যখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, সেই সুযোগে প্রতিপক্ষ ৪ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট এবং বাগানের প্রায় ৪০টি কলার গাছ কেটে সাবাড় করে দিয়েছে।
ভুক্তভোগী সালাম বলেন, আমরা আইনকে সম্মান করি। আদালত যদি তাদের পক্ষে রায় দেয়, আমরা জমি ছেড়ে দেব। কিন্তু শুনানির আগেই কেন এমন রক্তক্ষয়ী হামলা? আমরা এখন জমি নয়, জীবন নিয়ে শঙ্কায় আছি।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত আফসার আলীর সাথে যোগাযোগ ও মোবাইল ফোনেও পাওয়া যায়নাই। এই ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়রা এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
