রোববার থেকে দেশজুড়ে হামের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি: ৬ মাস থেকে ১০ বছরের সব শিশু পাবে সুরক্ষা

Spread the love

মোঃ জাকির হোসেনঃ

দেশে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধিতে জনমনে কিছুটা আতঙ্ক দেখা দিলেও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক সময়ে টিকাদান ও সচেতনতাই এর একমাত্র সমাধান। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগামী রোববার থেকে সারা দেশে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু করতে যাচ্ছে সরকার।

জরুরি টিকাদান কর্মসূচি: কারা এবং কীভাবে পাবেন?

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশনায় দেশের ইতিহাসে স্বল্পতম সময়ের নোটিশে এই ‘ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইন’ শুরু হচ্ছে।

  • বয়সসীমা: আগে সাধারণত ৯ থেকে ১৫ মাস বয়সি শিশুদের এই টিকা দেওয়া হতো। তবে বর্তমান জরুরি অবস্থায় ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়স পর্যন্ত সকল শিশু-কিশোরকে এই বিশেষ কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।
  • অগ্রাধিকার: যেসব এলাকায় সংক্রমণের হার বেশি, সেখানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকাদান শুরু হবে।
  • টিকার ধরন: এটি অত্যন্ত নিরাপদ এমআর (মিসেলস-রুবেলা) বা এমএমআর টিকা, যা শিশুকে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা দেয়।

হাম আসলে কী এবং কেন এটি বিপজ্জনক?

হাম একটি অতি সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা প্রধানত বায়ুর মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি বা কথা বলার মাধ্যমে ড্রপলেটের মাধ্যমে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এই ভাইরাসটি বাতাসে বা কোনো বস্তুর ওপর প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত জীবিত থাকতে পারে।

লক্ষণ চেনার উপায় (3C সূত্র)

হামের প্রাথমিক লক্ষণগুলো সহজেই চেনা যায় 3C ফর্মুলায়:

১. Cough (কফ): শুষ্ক কাশি।

২. Coryza (সর্দি): নাক দিয়ে পানি পড়া বা সর্দি।

৩. Conjunctivitis (চোখ লাল হওয়া): চোখের প্রদাহ বা চোখ দিয়ে পানি পড়া।

এর পাশাপাশি তীব্র জ্বর এবং কয়েকদিন পর মুখ থেকে শুরু করে সারা শরীরে লালচে দানা বা র‍্যাশ (Rash) দেখা দেয়।

ঝুঁকি ও জটিলতা

৫ বছরের কম বয়সি শিশু, অপুষ্ট শিশু এবং অন্তঃসত্ত্বা নারীরা এই রোগের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। সঠিক চিকিৎসা না পেলে হাম থেকে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, কানের মারাত্মক সংক্রমণ এমনকি মস্তিষ্কে প্রদাহের (এনসেফালাইটিস) মতো জটিলতা হতে পারে।

প্রতিরোধ ও প্রতিকারে করণীয়

  • টিকা নিশ্চিত করুন: একটি সমাজের অন্তত ৯৫% মানুষ টিকা নিলে এই ভাইরাসের বিস্তার স্থায়ীভাবে বন্ধ করা সম্ভব। তাই আপনার শিশুর নিয়মিত টিকার পাশাপাশি এই বিশেষ ক্যাম্পেইনের টিকাও নিশ্চিত করুন।
  • আলাদা রাখা: আক্রান্ত শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা (আইসোলেশন) রাখতে হবে যাতে সংক্রমণ না ছড়ায়।
  • পুষ্টিকর খাবার: প্রচুর পানি, তরল খাবার ও ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ খাবার শিশুকে দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে।
  • সতর্ক সংকেত: শিশুর শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি বা অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিন।

হাম নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন। টিকার মাধ্যমেই আপনার শিশুকে এই মরণব্যাধি থেকে রক্ষা করা সম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top