নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে দেশে দেখা দেওয়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত ও কঠোর কর্মকৌশল গ্রহণ করেছে সরকার। নতুন এই পরিকল্পনায় প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার চতুর্থ বৈঠকে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হয়। বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের ফলে জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সার খাতে সম্ভাব্য প্রভাব এবং তা মোকাবিলায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশল পর্যালোচনা করা হয়।
সরকারের গৃহীত নতুন পরিকল্পনায় বেশ কিছু তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—
৩ মাসের জন্য দেশব্যাপী সব ধরনের আলোকসজ্জা বন্ধ, সরকারি-বেসরকারি অফিস সময়: সকাল ৯টা – বিকাল ৪টা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সকাল ৯টা – বিকাল ৪টা, ব্যাংকিং সেবা: সকাল ১০টা – বিকাল ৩টা, বিপণিবিতান ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান: সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ (জরুরি সেবা ব্যতীত)
সরকার জানিয়েছে, এই সংকট মোকাবিলায় কৃষি ও শিল্প খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিশেষভাবে—
সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা, সারের উৎপাদন, মজুত ও সুষ্ঠু বিতরণ বজায় রাখা, শিল্প উৎপাদন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখা।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচারণা চালাবে। পাশাপাশি—
প্রয়োজন অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, জনগণকে সাশ্রয়ী ব্যবহারে উৎসাহিত করা।
বিশ্বব্যাপী জ্বালানি অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে সরকার এবার সাশ্রয়, নিয়ন্ত্রণ ও অগ্রাধিকারভিত্তিক সরবরাহ—এই তিন কৌশলের ওপর জোর দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সংকট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।
