নিজস্ব প্রতিবেদক, রায়পুর, লক্ষ্মীপুরঃ
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর বার্তা দিয়েছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য জনাব আবুল খায়ের ভূঁইয়া। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বা বিএনপির নাম ব্যবহার করে কোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড, দখলদারি বা জননিপীড়ন সহ্য করা হবে না।

শনিবার বিকেলে রায়পুর উপজেলার ১০ নং রায়পুর ইউনিয়নে আয়োজিত এক বিশাল গণসংযোগ ও সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ার পর নিজ নির্বাচনী এলাকার সাধারণ মানুষের কৃতজ্ঞতা জানাতে এবং তাদের অভাব-অভিযোগ সরাসরি শুনতে তিনি এই সফরের আয়োজন করেন।
সমাবেশে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে আবুল খায়ের ভূঁইয়া বলেন, “দীর্ঘদিন লড়াই-সংগ্রামের পর দেশে আজ গণতন্ত্রের সুবাতাস বইছে। এই বিজয় জনগণের বিজয়। সুতরাং বিএনপির নাম বিক্রি করে কেউ যদি কোনো অপকর্ম করার চেষ্টা করে, তবে তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা শোষণের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি, নতুন করে কাউকে শোষক হওয়ার সুযোগ দেব না।” তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক করে বলেন, জনগণের আস্থাই দলের মূল শক্তি। কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করা হলে সাংগঠনিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সৌজন্য সাক্ষাৎকালে ১০ নং রায়পুর ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষ তাদের প্রিয় নেতাকে কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। সাধারণ মানুষ তাদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত দুঃখ-দুর্দশার কথা এমপির কাছে তুলে ধরেন। বিশেষ করে বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা, কাঁচা রাস্তাঘাটের বেহাল দশা এবং কৃষি উপকরণ পেতে সমস্যার কথা জানান স্থানীয় কৃষকরা।
সবকিছু মনোযোগ দিয়ে শুনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য বলেন, “আমি আপনাদেরই সন্তান। আপনাদের দেওয়া পবিত্র আমানত (ভোট) আমি রক্ষা করব। এলাকার প্রতিটি রাস্তাঘাটের উন্নয়ন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন করাই হবে আমার প্রথম অগ্রাধিকার। কোনো মানুষ যেন সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেটি আমি নিজে তদারকি করব।”
একটি আধুনিক ও বৈষম্যহীন রায়পুর গড়ার পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের প্রতিটি টাকা যেন সঠিক কাজে ব্যয় হয়, তা নিশ্চিত করতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার কোনো বিকল্প নেই। তিনি এলাকার তরুণ সমাজের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মাদক মুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এছাড়া ১০ নং রায়পুর ইউনিয়নে একটি উন্নত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নের আশ্বাস দেন তিনি।
এদিন ১০ নং রায়পুর ইউনিয়নে পৌঁছালে আবুল খায়ের ভূঁইয়াকে ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান স্থানীয় মুরুব্বি, যুবক ও সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ। মিছিলে মিছিলে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। স্থানীয়রা জানান, নির্বাচনের পর অনেক নেতা এলাকা ছেড়ে শহরে চলে যান, কিন্তু তাদের সংসদ সদস্য বিজয়ী হয়েই সরাসরি জনগণের আঙিনায় আসায় তারা অত্যন্ত আনন্দিত।
সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সংক্ষিপ্ত সভা শেষে তিনি স্থানীয় জনসাধারণের সাথে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেন এবং দ্রুত উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিদায় নেন।


