এক বীর মুক্তিযোদ্ধার শেষ বিদায়ে চরম অবমাননা: রাষ্ট্র ও সমাজের লজ্জাজনক চিত্র

পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন ও জানাজাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট নজিরবিহীন প্রতিবন্ধকতা দেশজুড়ে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম এই সৈনিক ২৪ অক্টোবর মারা যাওয়ার পর স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের বাধার মুখে দীর্ঘ ১৫ ঘণ্টা আটকে থাকে তাঁর শেষকৃত্য। এমনকি শেষ পর্যন্ত রাতের আঁধারে পুলিশি প্রহরায় তাঁকে সমাহিত করতে হয়। চরম পরিতাপের বিষয় হলো, স্থানীয় প্রতিবেশীদের অসহযোগিতার কারণে এই মুক্তিযোদ্ধার কবর খুঁড়তে বাধ্য হন তাঁর মেয়ে ও বোন, যা সামাজিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের এক করুণ দৃষ্টান্ত।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার সাক্ষী হওয়ার জের ধরেই এমন আক্রোশের শিকার হতে হয়েছে তাঁকে। একজন মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মান জানানো তো দূরের কথা, দাফনে বাধা দেওয়ার এই ঘটনা রাষ্ট্রের মৌলিক ভিত্তিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে। একটি সুস্থ সমাজে মৃত ব্যক্তির প্রতি ন্যূনতম মানবিক মর্যাদা রক্ষা করা যেখানে কাম্য, সেখানে বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রতি এমন অবমাননা আমাদের জাতীয় চেতনার গভীর ক্ষতকেই পুনরায় উন্মোচিত করেছে। দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে এই লজ্জার দায় রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।
সূত্র: প্রথম আলো


