দেশীয় ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সমন্বয়ে এগিয়ে নিতে হবে ফ্যাশনশিল্প

বাংলাদেশের ফ্যাশনশিল্প এখন নিজস্ব গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছে। তবে এই অগ্রযাত্রায় মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে প্রয়োজনীয় পুঁজির অভাব, বিশেষ করে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। মহামারি পরবর্তী সময়ে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো নতুন উদ্যোক্তাদের ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করেছে। বর্তমানে বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো খুচরা বাজারে বড় বিনিয়োগ নিয়ে আসায় দ্রুত উৎপাদন ও বিপণন সম্ভব হচ্ছে, যা একইসাথে স্থানীয় হস্তশিল্প ও তাঁত শিল্পের জন্য বড় প্রতিযোগিতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই যন্ত্রনির্ভর দ্রুতগতির ফ্যাশনের ভিড়ে প্রান্তিক পর্যায়ের গবেষণাভিত্তিক ও হাতে তৈরি শিল্পকে টিকিয়ে রাখা এখন বড় দায়িত্ব।
ডিজাইনার মাহীন খানের মতে, কেবল অন্য দেশের পণ্য বয়কট করে ফ্যাশনশিল্পের উন্নয়ন সম্ভব নয়, বরং নিজেদের পণ্যের মান ও নকশাকে বিশ্বমানের করে গড়ে তোলাই হবে সঠিক কৌশল। ভৌগোলিক স্বকীয়তা বা জিআই স্বীকৃতির গুরুত্ব অনুধাবন করে জামদানি বা কাঁথার মতো ঐতিহ্যবাহী শিল্পগুলো রক্ষা করা জরুরি। কারিগরদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও গ্রামীণ পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে আমাদের নিজস্ব ঐতিহ্যকে আধুনিক জীবনযাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তুলতে হবে। কোনো প্রতিযোগী দেশের সঙ্গে দ্বন্দ্বে না জড়িয়ে নিজেদের সৃজনশীলতা, মান নিয়ন্ত্রণ ও সঠিক বিপণন কৌশলের ওপর জোর দিলেই দেশের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি আন্তর্জাতিক পরিসরে দীর্ঘস্থায়ী সাফল্য অর্জন করতে পারবে।
সূত্র: প্রথম আলো
