১৯৭১-এর বাংলাদেশ ও পিটার সিঙ্গারের দর্শনে কার্যকর পরার্থপরতা

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ কেবল একটি ভূখণ্ডকে স্বাধীন করেনি, বরং বিশ্ব দার্শনিক অঙ্গনে এক নতুন চিন্তার জন্ম দিয়েছিল। অস্ট্রেলীয় দার্শনিক পিটার সিঙ্গারের সেই সময়ের আলোচিত প্রবন্ধ ‘ফ্যামিন, অ্যাফ্লুয়েন্স, অ্যান্ড মোরালিটি’ আধুনিক নৈতিকতার সংজ্ঞা বদলে দিয়েছে। তৎকালীন পূর্ব বাংলার লাখো শরণার্থী ও খাদ্য সংকটের প্রেক্ষাপটে লেখা এই নিবন্ধে সিঙ্গার যুক্তি দিয়েছিলেন যে, সামর্থ্যবান মানুষের পক্ষে অসহায় মানুষের দুর্দশা রোধ করা কেবল মানবিকতা নয়, বরং নৈতিক বাধ্যবাধকতা। তিনি ভৌগোলিক দূরত্বের অজুহাতে নৈতিক দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার মানসিকতার সমালোচনা করে ধনী দেশ ও নাগরিকদের উদাসীনতাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছিলেন।
সিঙ্গারের ‘কার্যকর পরার্থপরতা’ দর্শন কেবল দান-খয়রাতের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং এটি সম্পদকে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেয়। তার এই তাত্ত্বিক কাঠামো এখন বিশ্বব্যাপী উন্নয়ন মডেল হিসেবে স্বীকৃত, যেখানে ব্যক্তিকে স্বাবলম্বী করার ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হয়। সমালোচকরা রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতার প্রশ্নে সিঙ্গারের দর্শনের সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও, মানুষের দুঃখ লাঘব এবং প্রাণিকুল ও পরিবেশ রক্ষায় তার চিন্তা আজও প্রাসঙ্গিক। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময় শুরু হওয়া সেই দার্শনিক যাত্রা আজ বিশ্বজুড়ে দারিদ্র্য বিমোচন ও মানবিক বিকাশে প্রেরণা জোগাচ্ছে। শিগগির এই চিন্তাবিদের ঢাকা সফরকে ঘিরে নতুন করে উন্নয়নের নৈতিক দিকগুলো নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সূত্র: প্রথম আলো


