প্রতিরক্ষা শিল্পে নতুন মেরুকরণ: ‘বদর চুক্তি’ কি কেবলই শিল্প সমঝোতা?

সম্প্রতি দোহায় তুরস্ক, কাতার, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘বদর’ প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। অনেকে এটিকে ‘মুসলিম ন্যাটো’র পরবর্তী ধাপ হিসেবে দেখলেও, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি মূলত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত সহায়তার একটি শিল্পকেন্দ্রিক সমঝোতা। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যকার ‘মক্কা চুক্তি’ যেখানে একটি যৌথ সামরিক প্রতিরক্ষা কাঠামো, সেখানে ‘বদর চুক্তি’ কোনো সামরিক সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেয় না। বরং এটি চারটি দেশের সামরিক শিল্প খাতের সক্ষমতা ও প্রযুক্তি বিনিময়ের একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।
এই কাঠামোর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তুরস্ক, যার প্রযুক্তি ও কারিগরি সহায়তায় দেশগুলোর যৌথ উৎপাদন প্রক্রিয়া গতিশীল হবে। বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমা অস্ত্র সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের সামরিক শিল্পের স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনই এই চুক্তির মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতায় অস্ত্রের খুচরা যন্ত্রাংশ ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে যে নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলাতেই এই উদ্যোগ। তবে চুক্তিটি কতটুকু কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে সদস্যদেশগুলোর মধ্যে সমান অংশীদারিত্ব এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের জটিল বাধাগুলো কাটিয়ে ওঠার সক্ষমতার ওপর।
সূত্র: প্রথম আলো
