মাঝবয়সের আয়নায় জীবনের নশ্বরতা ও অস্তিত্বের সংকট

মহাকালের বিশালতায় মানুষের জীবন অত্যন্ত ক্ষুদ্র এবং নশ্বর। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষ নিজেকে নানাভাবে অমর করে রাখার নিরন্তর প্রচেষ্টায় লিপ্ত থাকে। সাহিত্য, বিজ্ঞান কিংবা দর্শন—সবই যেন মৃত্যুর অনিবার্যতাকে অস্বীকার করার এক অবচেতন চেষ্টা। কিন্তু জীবনের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে চল্লিশের কোঠায় পৌঁছালে মানুষ এক ভিন্ন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়। এই পর্যায়ে একদিকে যেমন আপনজনদের হারানোর বেদনা দানা বাঁধে, অন্যদিকে সন্তানেরা বড় হয়ে নিজেদের মতো পথ বেছে নেয়। এই সন্ধিক্ষণে এসে মানুষ নিজেকে এক অদ্ভুত নিঃসঙ্গতায় আবিষ্কার করে, যাকে অনেকেই ‘মিড লাইফ ক্রাইসিস’ বলে অভিহিত করেন।
জীবনযাত্রার জটিল মানদণ্ড এবং সামাজিক প্রতিষ্ঠার দৌড় শেষে মাঝবয়সে এসে মানুষের মনে এক ধরনের উদাসীনতা ভর করে। তখন অর্জিত সাফল্য বা বিসর্জিত স্বপ্নগুলো অর্থহীন মনে হতে থাকে। নিজের অস্তিত্বকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করার প্রচেষ্টায় মানুষ নিভৃতচারী হয়ে ওঠে, পরিধি ছোট হয়ে আসে বন্ধুত্বের। সবশেষে, মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের অহংকার ও প্রকৃতির সাথে বিচ্ছিন্নতা নিয়ে প্রশ্ন জাগে। দিনশেষে এই নশ্বর পৃথিবীতে মানুষের যাবতীয় ব্যস্ততা আর অসারতার মাঝে কেবল একটি সত্যই অমোঘ—মৃত্যু। এই বোধ থেকেই মানুষ নিজের জীবনের অবশিষ্ট সময়কে অর্থপূর্ণ করার তাড়নায় নতুন করে ভাবতে শুরু করে।
সূত্র: প্রথম আলো
