শারদীয় উৎসবে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রবারণা পূর্ণিমা: আত্মশুদ্ধি ও মৈত্রীর মহামিলন

আশ্বিনী পূর্ণিমার স্নিগ্ধ আলোয় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জীবনে ফিরে আসে প্রবারণা পূর্ণিমা। আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে শুরু হওয়া তিন মাসব্যাপী বর্ষাব্রত ও কঠোর আত্মসংযমের পরিসমাপ্তি ঘটে এই দিনে। বৌদ্ধ ইতিহাসে শীল, সমাধি ও প্রজ্ঞার সাধনার চূড়ান্ত প্রকাশ হিসেবে এই পূর্ণিমা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ঐতিহ্যের এই দিনে আকাশ প্রদীপ ও রঙিন ফানুসের আলোয় আলোকিত হয় চারপাশ, নদীতে ভাসানো হয় প্যাগোডা আকৃতির প্রতিকৃতি। গান, কীর্তন আর ধর্মীয় উৎসবের আমেজে এদিন সর্বজনীন এক আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
বৌদ্ধ বিনয় অনুযায়ী, প্রবারণা মানে হলো নিজের ভুলত্রুটি বা নৈতিক স্খলনগুলো সংশোধন করে শুদ্ধ হওয়ার অঙ্গীকার। ভগবান বুদ্ধের নির্দেশনায় ভিক্ষুসংঘ এই বিশেষ দিনে মৈত্রী, করুণা, মুদিতা ও উপেক্ষার আদর্শ নিয়ে বিশ্বজুড়ে শান্তির বাণী প্রচারে বেরিয়ে পড়েন। বুদ্ধের সাম্য ও অহিংসার এই শিক্ষা আজও সমাজ থেকে হিংসা-বিদ্বেষ দূর করতে অনন্য ভূমিকা রাখছে। সকল প্রাণীর প্রতি মমতা ও মৈত্রী প্রদর্শনের মাধ্যমেই পৃথিবী শান্তিময় হয়ে উঠবে—এই মূলমন্ত্রই প্রবারণা পূর্ণিমার প্রকৃত শিক্ষা।
সূত্র: প্রথম আলো
