শিশুর মিথ্যা বলার নেপথ্যে লুকিয়ে আছে মস্তিষ্কের জটিল বিকাশ

অনেকেই ধারণা করেন শিশুরা মিথ্যা বলতে জানে না, কিন্তু বিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা। দুই বছর বয়স থেকেই শিশুদের মধ্যে মিথ্যা বলার প্রবণতা দেখা দেয় এবং চার বছর বয়স পেরোলে প্রায় ৮০ শতাংশ শিশু মিথ্যা বলা শিখে যায়। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, এটি কোনো নেতিবাচক বিষয় নয়, বরং শিশুর স্বাভাবিক কগনিটিভ বা জ্ঞানীয় বিকাশেরই একটি বহিঃপ্রকাশ। মিথ্যা বলতে গেলে মস্তিষ্ককে একসঙ্গে অনেকগুলো কাজ করতে হয়—যেমন সত্য চেপে রাখা, পরিস্থিতির বিচার করা এবং বিশ্বাসযোগ্য গল্প তৈরি করা। তাই গবেষকরা শিশুর এই আচরণকে মস্তিষ্কের একটি উচ্চস্তরের দক্ষতা হিসেবে বিবেচনা করেন।
মস্তিষ্কের প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্স যখন বিকশিত হতে থাকে, তখন শিশুরা তাদের চিন্তাশক্তি ও আত্মনিয়ন্ত্রণের চর্চা হিসেবেই মিথ্যার আশ্রয় নেয়। অনেক সময় বড়দের শাসন বা বকুনি থেকে বাঁচতে, কল্পনাপ্রসূত জগত ফুটিয়ে তুলতে কিংবা মনোযোগ আকর্ষণের কৌশল হিসেবে তারা এমনটা করে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শিশুদের ওপর অতিরিক্ত কঠোরতা মিথ্যার প্রবণতা কমায় না, বরং তাদের আরও দক্ষ মিথ্যাবাদী করে তুলতে পারে। তাই শিশুর মিথ্যা বলার পেছনে থাকা মনস্তাত্ত্বিক কারণগুলো বুঝে তাদের জন্য সত্য বলার একটি নিরাপদ ও ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করা অভিভাবকদের জন্য জরুরি।
সূত্র: প্রথম আলো
