শীতলক্ষ্যার রহস্যময় ‘বাহোক’ মাছ: ডাঙায় বিচরণ ও লোককথার আড়ালে এক বিস্ময়কর প্রাণী

শীতলক্ষ্যা নদীর তীরবর্তী জনপদে একসময় ‘বাহোক’ বা ‘বাসুকি’ নামে এক অদ্ভুত মাছের দেখা মিলত, যা নিয়ে স্থানীয় মানুষের মুখে প্রচলিত ছিল নানা রোমাঞ্চকর গল্প। সাপের মতো দেখতে প্রায় পাঁচ ফুট লম্বা এই মাছটি গভীর রাতে নদী থেকে ডাঙায় উঠে আসত। চরসিন্দুরের কৃষকদের অভিজ্ঞতায়, এই মাছ শসা বা ক্ষীরাখেতের ক্ষতি করতেও পিছপা হতো না। এদের চলাচলের পথে ছাই ছিটিয়ে দিয়ে কৃষকেরা একসময় কৌশলে এই মাছ শিকার করতেন। অদ্ভুত এই প্রাণীটিকে ঘিরে লোকবিশ্বাস ও বাস্তব অভিজ্ঞতার সংমিশ্রণে তৈরি হয়েছে অসংখ্য উপাখ্যান, যেখানে একে প্রায়ই পৌরাণিক বাসুকি নাগের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
বৈজ্ঞানিক ভাষায় ‘অ্যাঙ্গুইলা বেঙ্গালেনসিস’ (Anguilla bengalensis) নামে পরিচিত এই মাছের জীবনচক্র অত্যন্ত আকর্ষণীয়। ইলিশের বিপরীতমুখী এই মাছ প্রজননের জন্য মিঠাপানি থেকে সুদূর সমুদ্রে পাড়ি জমায়। ছোটবেলায় কাচকি মাছের ঝাঁকের সঙ্গে মিশে থাকা এই মাছের স্বচ্ছ লার্ভা বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জলপাই রঙের রূপ নেয়। মূলত নিশাচর ও মাংসাশী স্বভাবের এই মাছের বিচরণ ও রহস্যময় আচরণের কারণে এটি লোকসংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠেছে। তবে নদী দূষণ ও প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংসের ফলে শীতলক্ষ্যা থেকে আজ এই মাছ প্রায় বিলুপ্ত। বর্তমান সময়ে বাহোক মাছের জীবন ও অস্তিত্ব রক্ষায় বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রয়োজনীয়তা ক্রমবর্ধমান।
সূত্র: প্রথম আলো
