শিরোনাম :
গাছ বাঁচান, পৃথিবী বাঁচান: পুঠিয়ার বানেশ্বরে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন, বেরিয়ে এচাঁপাইনবাবগঞ্জে বিজিবির অভিযানে ২,০৮৫ বোতল সচাঁপাইনবাবগঞ্জে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদকবিরচাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৮ আসামসর্বনিম্ন দরদাতা বঞ্চিতের অভিযোগ, পুঠিয়া স্বচাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৩ বিজিবি’র অভিযানপুঠিয়ায় তিন ফসলি জমিতে পুকুর খননের হিড়িক, সংকচাঁপাইনবাবগঞ্জে ডিএনসির অভিযানে ৪০০ গ্রাম গজনবল ও অ্যাম্বুলেন্স সংকটে গোদাগাড়ী ৩১ শয্যা

ছাত্রের এডমিট কার্ডে ছাত্রীর ছবি, ৫০ শিক্ষার্থীর এডমিট কার্ডে ভুল: বিদ্যালয়ে তালা, প্রধান শিক্ষক পলাতক

Spread the love

ফরিদ আহমেদ আবির, প্রতিবেদক,দুর্গাপুর(রাজশাহী): রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার বখতিয়ারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের এডমিট কার্ডে ব্যাপক ভুলের ঘটনায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ছাত্রের পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্রে ছাত্রীর ছবি, ছাত্রের প্রবেশপত্রে ছাত্রীর ছবি, কারো বাবার নাম ভুল, আবার কারো মায়ের নাম ভুলসহ নানা অসঙ্গতি ধরা পড়েছে।

জানা গেছে, বিদ্যালয়ের মোট ৫০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৬ জনের এডমিট কার্ডে বিভিন্ন ধরনের ভুল রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।

আগামী ২১ এপ্রিল ২০২৬ (মঙ্গলবার) থেকে শুরু হতে যাচ্ছে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষা। পরীক্ষার মাত্র দুদিন আগে এমন ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

রোববার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে কয়েকজন শিক্ষককে বিদ্যালয়ের ভেতরে রেখে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এডমিট কার্ডে নাম, রোল নম্বর, পিতামাতার নামসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ভুল থাকায় শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। এ ঘটনায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর থেকেই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেরানিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী বলেন, “দুদিন পরে আমাদের পরীক্ষা, কিন্তু প্রবেশপত্রে এমন ভুল দেখে আমরা খুব চিন্তিত। দ্রুত এর সমাধান চাই।”

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাশতুরা আমিনা। তিনি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত এডমিট কার্ডের ভুল সংশোধনের আশ্বাস দেন। তার আশ্বাসে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।

ইউএনও মাশতুরা আমিনা বলেন, “বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কয়েকজন শিক্ষককে উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।”

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লায়লা আক্তার বলেন, “বিষয়টি শুনেছি। একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান হয়ে দায়িত্বে অবহেলার কারণেই এমন ভুলগুলো হয়েছে। আমি নিজেও যোগাযোগের চেষ্টা করেছি, কিন্তু প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। এটি সুস্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠানের প্রধানের গাফিলতির ফল।”
এদিকে, অভিভাবকরা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

বিষয়টি নিয়ে জানতে বখতিয়ারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন আলীর ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top