‘নীতি ও সমাজ রক্ষা’র ফতোয়ায় পণ্ড পাড়ার নাটকের মহড়া

একটি শীতের বিকেলে স্থানীয় ক্লাবে আসন্ন বনভোজনের জন্য হাসির নাটকের মহড়া চলাকালে এলাকার কিছু ব্যক্তির হস্তক্ষেপে তা বন্ধ হয়ে যায়। তথাকথিত ‘নীতি ও সমাজ রক্ষা কমিটি’র প্রধান মকবুল ভাই এবং তার সহযোগীরা নাটকটিকে সমাজের গাম্ভীর্য নষ্টকারী ও নৈতিকতাবিরোধী হিসেবে আখ্যা দিয়ে মহড়া থামিয়ে দেন। তাদের দাবি, নারী-পুরুষের একসাথে অভিনয় এবং নাটকের সংলাপ সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। এই বাধা সত্ত্বেও নাট্যদলের সদস্যরা বিনয়ের সাথে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলে, মকবুল ভাই থানায় লিখিত অভিযোগ জানানোর ভয় দেখান। অতীতে একই গোষ্ঠীর হস্তক্ষেপে স্থানীয় মেয়েদের একটি ফুটবল টুর্নামেন্টও বাতিল হওয়ার ঘটনা তরুণদের মনোবল ভেঙে দেয়।
শেষ পর্যন্ত ঝামেলা এড়াতে রোমেল ও তার দল নাটকের স্ক্রিপ্ট সরিয়ে ফেলে এবং হারমোনিয়ামের বাক্সের মুখ বন্ধ করে মহড়া গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়। এলাকাটিতে একের পর এক বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ড এভাবেই বাধাগ্রস্ত হওয়ায় স্থানীয় যুবকদের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। চায়ের আড্ডায় ব্যঙ্গ করে অনেকে বলছেন, ভবিষ্যতে পাড়ায় যেকোনো ধরনের খেলার আয়োজন করতে হলেও হয়তো ‘সাইলেন্ট সাউন্ড থেরাপি’র মতো হাস্যকর অজুহাত তৈরি করতে হবে। সাধারণ মানুষের সহজ-সরল বিনোদনকে এভাবে বারবার ‘অশ্লীলতা’র তকমা দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হলে অদূর ভবিষ্যতে সৃজনশীল চর্চার সুযোগ একেবারে সংকুচিত হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সূত্র: প্রথম আলো
