দুর্গাপুর (রাজশাহী) প্রতিনিধি:

একহাতে প্রশাসনিক কঠোর দায়িত্ব, অন্যহাতে এক অবুঝ শিশুর স্নেহময় আশ্রয়। সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এক অনন্য মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। পরীক্ষা কেন্দ্রে মায়ের পরীক্ষা বিঘ্নিত না হতে নিজের কোলে তুলে নিলেন দুধের শিশুকে, আর তাতেই কোনো বাধা ছাড়া নিশ্চিন্তে পরীক্ষা শেষ করলেন এক অসহায় মা।
মঙ্গলবার দুর্গাপুর উপজেলায় অনুষ্ঠিত হয় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের নিয়োগ/বাছাই পরীক্ষা। এতে অংশ নিতে আসেন উপজেলার এক নারী পরীক্ষার্থী। ঘরে শিশুকে দেখাশোনার মতো কেউ না থাকায় বাধ্য হয়েই দুধের সন্তানকে সাথে নিয়ে কেন্দ্রে আসেন তিনি।
তবে পরীক্ষা শুরু হতেই সন্তানকে সামলানো নিয়ে চরম বিপাকে পড়েন ওই মা। পরীক্ষার হলে শিশুকে নিয়ে বসা ও মনোযোগ দেওয়া যখন প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠছিল, ঠিক তখনই বিষয়টি চোখে পড়ে তদারকিতে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার।
পরীক্ষার্থী মায়ের সেই অসহায়ত্ব অনুধাবন করে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে এগিয়ে আসেন এবং শিশুটিকে নিজের কোলে তুলে নেন। পরীক্ষা চলাকালীন পুরোটা সময় ইউএনও নিজেই পরম স্নেহে বাচ্চাটিকে শান্ত রেখে কোলে আগলে রাখেন। ফলে কোনো প্রকার মানসিক চাপ ও ঝামেলা ছাড়াই ওই নারী তার পরীক্ষা সম্পন্ন করতে সক্ষম হন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্যান্য পরীক্ষার্থী, সাধারণ অভিভাবক এবং শিক্ষক সমাজ প্রশাসনিক পদে থাকা একজন কর্মকর্তার এমন বিরল মানবিক ব্যবহারে আবেগপ্লুত হয়ে পড়েন। তারা জানান, একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা যখন জনবান্ধব ও মানবিক রূপ নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ান, তখন তা পুরো সমাজের জন্যই অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে।
এ বিষয়ে দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, “কোনো পরীক্ষার্থী যেন প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে নিজের মেধা প্রমাণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন, সেটাই ছিল আমাদের প্রধান চাওয়া। একজন মা যেন কেবল সন্তানের দেখাশোনার অভাবে পরীক্ষা থেকে ছিটকে না পড়েন, সেই চিন্তা থেকেই এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা।”
প্রশাসনের এমন আন্তরিক ও মানবিক উদ্যোগ স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।
