📰 ই-পেপার
ব্রেকিং
এইচএসসির ফলাফল: অর্জনের আনন্দ আর প্রত্যাশাভঙ্গের বিষাদে একাকার পরীক্ষার্থীরা এইচএসসি পরীক্ষায় ফলাফলে মেয়েরা এগিয়ে, জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে পিছিয়ে খুলনা পঙ্গু এন্ড জেনারেল হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, মরহুম ডাঃ প্রফেসর কাজী হামিদ আসগরের চতুর্থ তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত। বিশ্বের সবচেয়ে জটিল বোর্ড গেম শেষ করতে তিন দশকের দীর্ঘ যাত্রায় দুই বন্ধু অ্যাথেন্সের ঐতিহাসিক ‘মোরিয়া’ ক্যাফে বন্ধ: এক যুগের অবসান এইচএসসির ফলাফল: অর্জনের আনন্দ আর প্রত্যাশাভঙ্গের বিষাদে একাকার পরীক্ষার্থীরা এইচএসসি পরীক্ষায় ফলাফলে মেয়েরা এগিয়ে, জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে পিছিয়ে খুলনা পঙ্গু এন্ড জেনারেল হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, মরহুম ডাঃ প্রফেসর কাজী হামিদ আসগরের চতুর্থ তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত। বিশ্বের সবচেয়ে জটিল বোর্ড গেম শেষ করতে তিন দশকের দীর্ঘ যাত্রায় দুই বন্ধু অ্যাথেন্সের ঐতিহাসিক ‘মোরিয়া’ ক্যাফে বন্ধ: এক যুগের অবসান
নিউজ, অর্থনীতি, আইন ও অপরাধ, বাংলাদেশ, ব্রেকিং নিউজ, লাইফস্টাইল

মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রশাসনের মূল দায়িত্ব-দুর্গাপুরে মানবিক ও জনবান্ধব প্রশাসনিক ছাপ ইউএনও উম্মে হাবিবা ফারজানার

September 7, 2026

Spread the love

মোঃ জাকির হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী:

সরকারি পদ মানে শুধু দাপ্তরিক ক্ষমতার প্রয়োগ নয়; বরং নাগরিক অধিকার সুনিশ্চিত করা, বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং রাষ্ট্রের সেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া—এই দর্শনকে সামনে রেখে রাজশাহীর দুর্গাপুরে দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা ফারজানা। গত ১৬ জুলাই যোগদানের মাত্র ৩৫ কার্যদিবসের মধ্যে নিজের কাজের ধরন, আন্তরিকতা এবং জনবান্ধব প্রশাসনিক আচরণের মাধ্যমে স্থানীয়দের মন জয় করে নিয়েছেন বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের এই কর্মকর্তা।


ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রশাসনের দূরত্ব কমিয়ে আনতে কাজ করছেন উম্মে হাবিবা ফারজানা। তাঁর কাছে উপজেলা প্রশাসনের দরজা শুধু নিয়মিত প্রশাসনিক কাজের জন্য নয়, বরং অসহায় ও সেবাপ্রত্যাশী মানুষের আশ্রয়স্থল হিসেবেও উন্মুক্ত। সেবা নিতে এসে কোনো নাগরিক যেন দীর্ঘসূত্রতা, অপ্রয়োজনীয় হয়রানি বা দাপ্তরিক জটিলতার মুখোমুখি না হন—এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন তিনি।

নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে ইউএনও বলেন, “একজন সরকারি কর্মকর্তা শুধু একটি পদে দায়িত্ব পালন করেন না; তিনি রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে মানুষের সঙ্গে সরাসরি কাজ করেন। সততা, নিষ্ঠা, দক্ষতা ও মানবিকতা নিয়ে দায়িত্ব পালন করাই একজন কর্মকর্তার সবচেয়ে বড় পরিচয়।”


বাংলাদেশের সংবিধানের ২১(২) অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে ইউএনও উম্মে হাবিবা ফারজানা জানান, প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত প্রত্যেক ব্যক্তির মূল দায়িত্বই হলো জনগণের সেবা করা। এটি কেবল একটি সাংবিধানিক নির্দেশনা নয়, বরং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনের অন্যতম মৌলিক ভিত্তি।

কর্মকর্তাদের মানসিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জনগণের চাকর বা দাস নন; তাঁরা প্রজাতন্ত্রের সেবক। ক্ষমতা মানুষের ওপর প্রয়োগের জন্য নয়, মানুষের কল্যাণে ব্যবহারের জন্য। একজন কর্মকর্তা কত বড় পদে আছেন—তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, তাঁর কাছে এসে একজন সাধারণ মানুষ কতটা স্বস্তি নিয়ে ফিরে যেতে পারলেন।”

উপজেলা প্রশাসনের সাধারণ তদারকির পাশাপাশি অসহায় মানুষের মানবিক সংকটে সরাসরি পাশে দাঁড়াচ্ছেন ইউএনও ফারজানা। সম্প্রতি জয়নগর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের শারীরিক অসুস্থতায় ভুগতে থাকা ৬০ বছর বয়সী ফতেজান বেওয়া ইউএনওর কাছে সহায়তার জন্য এলে তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে এক বস্তা খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

অনুরূপভাবে দুর্গাপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের শানপুকুরিয়া গ্রামের সেলিম তাঁর মেয়ের ভাঙা মাটির ঘরের জন্য আকস্মিক সংকটে পড়ে উপজেলা প্রশাসনে আসেন। আবেদন করার পর কোনো প্রকার হয়রানি বা মধ্যস্বত্বভোগীর ঝামেলা ছাড়াই তিনি পান ২ বান্ডিল টিন, ৬ হাজার টাকার চেক এবং শুকনা খাবার। সহায়তার পর সেলিম বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “ভাবতেই পারিনি কোনো হয়রানি ছাড়াই এই সাহায্য পাবো।”

সহায়তা প্রদানকে নিজের ব্যক্তিগত কোনো অনুগ্রহ হিসেবে মানতে নারাজ ইউএনও। তিনি বলেন, “মানুষ যেন তার প্রাপ্য সেবা নিতে এসে মনে না করেন যে তিনি কারও কাছে অনুগ্রহ চাইতে এসেছেন—বরং তিনি তাঁর অধিকার চাইতে এসেছেন।”


বরিশালের কৃতিসন্তান উম্মে হাবিবা ফারজানা বিসিএসের ৩৭তম ব্যাচে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার এবং পরবর্তীতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।

মাঠ প্রশাসনে আইন প্রয়োগ, উন্নয়ন কার্যক্রমের সমন্বয়, দুর্যোগ মোকাবিলা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির তদারকি এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের পাশাপাশি প্রশাসনের একটি ‘মানবিক মুখ’ গড়ে তুলেছেন তিনি। সাধারণ মানুষের ছোট ছোট সমস্যা সমাধান ও হয়রানিমুক্ত সেবা প্রদানের মাধ্যমে রাষ্ট্রের প্রতি জনগণের আস্থা সুদৃঢ় করাই এখন দুর্গাপুরে তাঁর প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের মূল মাপকাঠি হয়ে উঠেছে।

এই সংবাদের ফটো কার্ড বানিয়ে নিন —