শিরোনাম :
দূর্গাপুরে নতুন শিল্পীদের খোঁজে শুরু হচ্ছে ‘নিয়ামতপুরে ভূমি সেবা সংক্রান্ত গণশুনানি অনুচারঘাট মডেল থানার এএসআইয়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তচারঘাটে নারী সহায়তা ফোরামের সঙ্গে উপজেলা প্ররাজশাহীতে র‍্যাব-৫ এর পৃথক অভিযানে ১০টি গাঁজগভীর রাতে র‍্যাবের জালে পুঠিয়ার গাঁজা চাষিশিবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির অভিযানে চোরাই মোবামেধাবী ও রোমাঞ্চকর জীবনসঙ্গী: সাংবাদিকের সাথবেনাপোল বন্দরের জব্দকৃত পণ্য বদলের অভিযোগ, ২.চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় বর্জ্য পৃথকীকরণ কার

মেধাবী ও রোমাঞ্চকর জীবনসঙ্গী: সাংবাদিকের সাথে প্রেমের যত সুবিধা

Spread the love

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রেমের ক্ষেত্রে মানুষ সাধারণত এমন একজন সঙ্গীকে খোঁজে যে একাধারে বুদ্ধিমান, সচেতন এবং জীবনের নানা পরিস্থিতি সামাল দিতে পারদর্শী। আধুনিক সম্পর্কের সমীকরণে পেশা একটি বড় ভূমিকা পালন করে। আর এই তালিকায় যদি সঙ্গী হিসেবে কোনো ‘সাংবাদিক’ থাকেন, তবে জীবনে যুক্ত হয় এক ভিন্ন মাত্রা। আপাতদৃষ্টিতে সাংবাদিকদের জীবন অত্যন্ত ব্যস্ত ও চ্যালেঞ্জিং মনে হলেও, একজন সাংবাদিকের সাথে প্রেম করার চমৎকার কিছু সুবিধা রয়েছে, যা অন্য পেশার মানুষের ক্ষেত্রে মেলা ভার।

সাংবাদিকের সাথে প্রেম করার প্রধান কিছু ইতিবাচক দিক নিচে তুলে ধরা হলো:

১. একজন সাংবাদিককে পেশাগত কারণেই দেশ-বিদেশ, রাজনীতি, অর্থনীতি থেকে শুরু করে বিনোদন ও অপরাধ—সব বিষয়ের খোঁজ রাখতে হয়। ফলে তাদের সাথে আড্ডায় কখনো বিষয়ের অভাব হয় না। যেকোনো জটিল বিষয়ে তাদের নিজস্ব ও যুক্তিযুক্ত মতামত থাকে, যা সঙ্গীর জ্ঞান ও চিন্তাভাবনার পরিধি বাড়াতে সাহায্য করে।

২. সাংবাদিকদের মজ্জাগত স্বভাব হলো সত্য খুঁজে বের করা। সম্পর্কে কোনো ভুল বোঝাবুঝি বা ধোঁয়াশা তৈরি হলে তারা সাধারণত অনুমানের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেয় না। বরং তারা সরাসরি কথা বলে বা সত্য জানার চেষ্টা করে সমস্যা সমাধান করতে পছন্দ করে।

৩. পেশাগত কারণে সাংবাদিকদের প্রতিদিন শত শত মানুষের সাথে কথা বলতে হয়। কার সাথে কীভাবে কথা বলে তথ্য বের করতে হবে, তা তারা খুব ভালো করেই জানে। সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এই গুণটি দারুণ কাজে দেয়। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করা এবং সঙ্গীর আবেগ বা না-বলা কথা বোঝার ক্ষমতা তাদের বেশ ভালো থাকে।

৪. সাংবাদিকদের কাজের সময়সীমা নির্দিষ্ট নয়। যেকোনো মুহূর্তে ব্রেকিং নিউজের জন্য তাদের ছুটে যেতে হতে পারে। যেহেতু তারা নিজেরা প্রচণ্ড ব্যস্ত থাকে, তাই তারা সঙ্গীর ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও স্পেসের (Personal Space) গুরুত্ব খুব ভালো বোঝে। সম্পর্কে অহেতুক ‘পজেসিভনেস’ বা সারাক্ষণ লেগে থাকার মানসিকতা এদের মধ্যে সাধারণত কম থাকে।

৫. একজন সাংবাদিকের নেটওয়ার্ক বা পরিচিতি থাকে সমাজের সব স্তরে—প্রশাসন, পুলিশ, চিকিৎসক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে বা আইনি-সামাজিক সমস্যায় সাংবাদিক সঙ্গীর এই বিশাল নেটওয়ার্ক এক মুহূর্তেই বড় ঢাল হিসেবে কাজ করতে পারে।

৬. সাংবাদিকদের জীবন ছকবাঁধা নয়। আজ হয়তো তারা কোনো প্রত্যন্ত গ্রামে রিপোর্টিং করছেন, তো কাল কোনো ভিআইপি অনুষ্ঠানে। এই বৈচিত্র্যময় জীবনের গল্পগুলো যখন তারা সঙ্গীর সাথে ভাগ করে নেয়, তখন প্রেম একঘেয়েমি কাটিয়ে সবসময় সতেজ ও রোমাঞ্চকর থাকে।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে— যাঁরা চ্যালেঞ্জিং পেশার মানুষের সাথে সম্পর্কে জড়ান, তাঁদের নিজেদের মানসিক পরিপক্বতাও দ্রুত বৃদ্ধি পায়। একজন সাংবাদিকের জীবনসঙ্গী হওয়া মানে জীবনের বাস্তব রূপকে খুব কাছ থেকে দেখা।

অবশ্যই, দিন-রাতের ব্যস্ততা বা ছুটির অনিশ্চয়তার কারণে সাংবাদিকের সাথে প্রেম করাটা মাঝে মাঝে কিছুটা ধৈর্যের পরীক্ষাও বটে। তবে সব মিলিয়ে, একজন সচেতন, সাহসী এবং সমাজকে পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখা মানুষের মন জয় করতে পারলে, সেই সম্পর্ক জীবনের অন্যতম সেরা প্রাপ্তি হয়ে উঠতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top