শিরোনাম :
চারঘাটে নাগরিক অধিকার ও জলবায়ু ন্যায্যতা প্রমানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রশাসনের মূল দায়িতশিবগঞ্জ সীমান্তে ৭৬ বোতল এস্কাফ সিরাপ জব্দ:মদুর্গাপুরে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নিয়ে অপপ্রচারদুর্গাপুরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ‘ডিবিএনপি নেতা শরিফ রুমনের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠা বমিশালকে ঘিরে অপপ্রচার: পরিবারের সংবাদ সম্মেলমাদকের পক্ষে সুপারিশ নয়: দুর্গাপুরে ইউএনওদুর্গাপুরে আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষমুচলেকার পরদিন জমকালো আয়োজনে বাল্য বিয়ে দি

রাকসুর টাকার হিসাব চেয়ে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

Spread the love

রাবি প্রতিনিধি:

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) তহবিলের অর্থ ব্যবহারে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। সংগঠনটির নেতারা রাকসুর আর্থিক লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ এবং অভিযোগ তদন্তে দ্রুত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট এলাকা থেকে ছাত্রদলের মিছিলটি বের হয়। পরে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রশাসন ভবনের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হন নেতা-কর্মীরা। রাত পৌনে ৯টার দিকে কর্মসূচি শেষ হয়।

সমাবেশে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা রাকসুর অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাঁরা রাকসুর তহবিলের প্রতিটি খাতের ব্যয়, বিল-ভাউচার ও আর্থিক নথি প্রকাশের দাবি জানান।

‘হিসাব দিতে হবে’

সমাবেশে শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মিঠু অভিযোগ করেন, রাকসুর ভিপির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি বিপুল অঙ্কের অর্থ উত্তোলন করেছেন, যার ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর দাবি, অতিরিক্ত অর্থ দেখানো হয়ে থাকলে তারও ব্যাখ্যা দিতে হবে।

রাকসুর কোষাধ্যক্ষ সেতাউর রহমানের সমালোচনা করে শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগও তহবিল ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। তিনি রাকসুর অর্থ কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানান।

ব্যয়ের অঙ্ক নিয়ে প্রশ্ন ছাত্রদলের

শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, রাকসু প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করা। ফলে শিক্ষার্থীদের অর্থের প্রতিটি ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা থাকা জরুরি। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে অনিয়ম প্রমাণিত হলে অর্থ উদ্ধারের ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

রাহী দাবি করেন, বিশ্বকাপের খেলা দেখাতে ছাত্রদলের উদ্যোগে এলইডি স্ক্রিন স্থাপনে প্রায় ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছিল। অথচ একই ধরনের আয়োজনের জন্য রাকসুর হিসাবে ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। একইভাবে ভর্তি পরীক্ষার সময় ছাত্রদলের বুথ স্থাপনে যেখানে প্রায় এক থেকে দেড় হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে, সেখানে রাকসুর বুথ স্থাপনে ৩ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

৪২ কর্মসূচিতে উত্তোলন ১ কোটি ২৯ লাখ টাকা

রাকসুর কোষাধ্যক্ষের কার্যালয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ৪২টি কর্মসূচির বিপরীতে রাকসুর প্রতিনিধিরা মোট ১ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৬৮৯ টাকা উত্তোলন করেছেন। এর মধ্যে ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৮ টাকা ব্যয়ের বিল-ভাউচার এখনো জমা হয়নি বলে সূত্রটি জানিয়েছে।

এই বিপুল অঙ্কের অর্থের ব্যয় ও ভাউচার জমা না দেওয়ার বিষয়টিকেই সামনে এনে তদন্তের দাবি তুলেছে ছাত্রদল।

তবে তহবিলের অর্থ আত্মসাত হয়েছে—ছাত্রদলের এমন অভিযোগের সত্যতা এখনো কোনো তদন্ত বা নিরীক্ষায় প্রমাণিত হয়নি। ফলে অর্থের প্রকৃত ব্যবহার, ব্যয়ের যৌক্তিকতা এবং ভাউচার জমা না দেওয়ার কারণ স্পষ্ট করতে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই ও নিরপেক্ষ অডিটের দাবি জোরালো হচ্ছে।

ছাত্রদলের নেতারা জানিয়েছেন, রাকসুর অর্থ ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত তারা বিষয়টি নিয়ে তাদের কর্মসূচি অব্যাহত রাখবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top