রবিউল ইসলামঃ দীর্ঘ তিন দশকের রাজনৈতিক পরিক্রমা আর রাজপথের লড়াইয়ের স্বীকৃতি পেলেন মাহফুজুর রহমান রিটন। অনেক অভিজ্ঞ ও সিনিয়র নেতাকে পেছনে ফেলে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) নতুন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।

মাত্র ৪৮ বছর বয়সে রাজশাহীর মতো মেগাসিটির দায়িত্ব পাওয়া রিটনের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৯৫ সালে। রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজের মানবিক বিভাগের ‘ক্লাশ কমিটির সভাপতি’ হিসেবে তিনি প্রথম নেতৃত্বের স্বাদ পান। এরপর ধাপে ধাপে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন:
সিটি কলেজ ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে তিনি রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক (২০০২-২০১২) এবং সভাপতি (২০১৬ পর্যন্ত) ছিলেন। যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতির পদও অলঙ্কৃত করেন তিনি।
যুবদলের সাংগঠনিক ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব সামলে ২০২৩ সালে মহানগরের আহ্বায়ক হন। এরপর ২০২৫ সালে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি দেশের কয়েকটি সিটিতে প্রশাসক নিয়োগের পর থেকেই রাজশাহীর রাজনৈতিক অঙ্গনে জল্পনা-কল্পনা তুঙ্গে ছিল। আলোচনায় ছিলেন সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ মামুদসহ বেশ কয়েকজন বর্ষীয়ান নেতা। তবে সরকার শেষ পর্যন্ত লড়াকু ও তরুণ নেতৃত্বের ওপরই আস্থা রেখেছে। আড়াই যুগের বেশি সময় ধরে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সক্রিয় থাকা রিটন তিনবার কারাবরণও করেছেন।
১৯৭৮ সালের ১ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করা মাহফুজুর রহমান রিটন শিক্ষাজীবনে এলএলবি (অনার্স) সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি নগরীর হেতমখাঁ এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা।
রাজশাহীর স্থানীয় রাজনীতিতে এই নিয়োগকে দেখা হচ্ছে এক নতুন প্রজন্মের উত্থান হিসেবে। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই নেতার হাত ধরে সিটি করপোরেশনের নাগরিক সেবার মান কতটুকু ত্বরান্বিত হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
