রাজশাহী প্রতিনিধিঃ পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দীদের সঙ্গে এক মানবিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ মিলনমেলার আয়োজন করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। ঈদের আনন্দ বন্দীদের মাঝেও ভাগাভাগি করে নিতে নেওয়া এই উদ্যোগে কারাগারের ভেতরে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর ও মানবিক পরিবেশ।
কারাগার সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে বন্দীদের জন্য উন্নত মানের বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। একই সঙ্গে বন্দীদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সুযোগ দেওয়া হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে স্বজনদের বাসা থেকে আনা খাবার পরীক্ষার মাধ্যমে গ্রহণেরও অনুমতি দেওয়া হয়। এতে বন্দীদের পাশাপাশি তাদের স্বজনদের মধ্যেও স্বস্তি ও আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়।

এ সময় বন্দীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ও ভারপ্রাপ্ত ডিআইজি প্রিজন শাহ আলম খান এবং জেলার মুশফিকুর রহমান। তাঁরা বন্দীদের মাঝে বিশেষ খাবার বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
ভারপ্রাপ্ত ডিআইজি শাহ আলম খান বলেন, কারাগার কেবল শাস্তি ভোগের স্থান নয়; এটি সংশোধন, পুনর্বাসন ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। দীর্ঘ এক মাস রোজা থাকার পর ঈদের মতো আনন্দঘন উৎসবে বন্দীদের সঙ্গে এই মিলনমেলার আয়োজন তাদের মানসিক স্বস্তি ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করারই অংশ।
এ সময় কারা কর্মকর্তা, বন্দী ও কারারক্ষীদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে শুভেচ্ছা বিনিময় হয়। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে কারাগারে সৃষ্টি হয় এক অনন্য মানবিক পরিবেশ।
নওগাঁ থেকে আসা এক বন্দীর স্ত্রী ও সন্তান সাক্ষাৎ শেষে বলেন, আগে এমন পরিবেশ দেখেননি। তাঁদের ভাষ্য, কারা কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে বন্দীদের সামনে সুষ্ঠুভাবে খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এবং সবাইকে সম্মানের সঙ্গে আচরণ করা হয়েছে। এতে বন্দীরা বেশ খুশি।
বাঘা থানা এলাকা থেকে আসা ৬০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ বন্দী আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ঈদের দিনে তাদের জন্য বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হয়েছে। মুরগির রোস্ট, গরুর মাংস, পোলাও ভাত ও কোমল পানীয় দেওয়া হয়েছে। তিনি কারা কর্তৃপক্ষের জন্য দোয়া করেন।
একাধিক বন্দীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কারাগারের খাদ্য, চিকিৎসা ও বাসস্থান ব্যবস্থাপনা নিয়মিত তদারকি করা হয় এবং বন্দীদের খোঁজখবর নেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।
মানবাধিকারকর্মী মো. মাসুদ রানা বলেন, অতীতে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা জানা গেলেও। ভারপ্রাপ্ত ডিআইজি এবং সিনিয়র জেল সুপার শাহআলম ও জেলার মুশফিকুর রহমান যোগদানের পরে এ ধরনের কোনো অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বন্দীদের স্বজনদের কাছ থেকেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে। মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখে কারা কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব পালন করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
